দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকায় চেন্নাইয়ের স্বেচ্ছাসেবক অসুস্থ হয়েছিলেন খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞের টিম তৈরি করেছিল ড্রাগ কন্ট্রোল। সেই টিমের তরফেই বলা হয়েছে, টিকার ডোজের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকের রোগের কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। যে ধরনের স্নায়ুর রোগের অভিযোগ উঠেছে তা যে টিকার কারণেই হয়েছে তেমনটা একেবারেই বলা যায় না। মোদ্দা কথা, সেরামের টিকার ট্রায়ালে কোনও গলদ ছিল না। তাই স্বেচ্ছাসেবককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
বুধবার ড্রাগ কন্ট্রোলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, সেরামের কোভিশিল্ড টিকায় এখনও অবধি খারাপ কোনও ফল দেখা যায়নি। তাই টিকার ট্রায়াল বন্ধ হবে না।
অক্সফোর্ড টিকার ফর্মুলায় ভারতে কোভিশিল্ড টিকা বানিয়েছে সেরাম। এই টিকার তৃতীয় পর্বের বৃহত্তর ট্রায়াল চলছে দেশের ১৫টি জায়গায়। এই ট্রায়াল চলার সময়েই এক স্বেচ্ছাসেবক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, টিকার ডোজে জটিল স্নায়ুর রোগ দেখা দিয়েছে বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তির। তাঁর অবস্থা খারাপ। আইসিইউতে ভর্তি। ওই ব্যক্তির তরফে সেরামের কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি ল ফার্ম। অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবকের আইনজীবীর দাবি, গত ১ অক্টোবর টিকার ডোজ দেওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে। তারপরেই তাঁর মানসিক রোগ দেখা দিয়েছে। অ্যাকিউট নিউরো এনসেফ্যালোপ্যাথি নামে জটিল স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।
এই অভিযোগের পাল্টা সেরাম জানায়, মিথ্যা কথা বলছেন স্বেচ্ছাসেবক। অপপ্রচার করে সংস্থার নাম খারাপের চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা মানহানির মামলাও করে সেরাম। ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্ট করে সংস্থার তরফে জানানো হয়, কোভিশিল্ড টিকা মানুষের শরীরে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিরাপদ। ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর, এথিক্স কমিটির সদস্যরা আলাদা করে টিকার ডোজ পরীক্ষা করে দেখেছেন। তাছাড়া টিকা মানুষের শরীরে দেওয়ার আগে বহুবার পরীক্ষা করে নেওয়া হয়, তাই খারাপ কিছু হওয়ার সম্ভাবনাই নেই।
কোভিশিল্ড টিকায় সত্যিই গলদ আছে কিনা খতিয়ে দেখতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, নার্সিংহোম থেকে একজন করে অভিজ্ঞ ডাক্তার নিয়ে বিশেষজ্ঞের কমিটি তৈরি করে ড্রাগ কন্ট্রোল। দিল্লির এইমস, সফদরজঙ্গ হাসপাতাল, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারদের নিয়ে এই বিশেষজ্ঞের প্যানেল তৈরি হয়েছে। এই প্যানেলের তরফে জানানো হয়েছে টিকার ডোজে কোনও অ্যাডভার্স সাইড এফেক্ট দেখা যায়নি। ট্রায়ালের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থতার কোনও সম্পর্ক নেই।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর বলরাম ভার্গব বলেছেন, টিকার ডোজ গুরুতর অসুস্থতার ঘটনা ঘটলে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। যে কোনও টিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সবচেয়ে আগে। টিকার প্রতিটি ডোজ, ট্রায়ালের পদ্ধতি ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয়ের উপর নজর রাখছে বিশেষজ্ঞের টিম। তাই চিন্তা বা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।