দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা রোগীদের উপর জরুরি ভিত্তিতে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ফ্যাভিপিরাভিরের প্রয়োগ করা যাবে, অনুমোদন দিল ড্রাগ কন্ট্রোল। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যক করোনা রোগীদের উপরেই আপাতত এই ওষুধের থেরাপি করা যাবে। ড্রাগ কন্ট্রোলের গাইডলাইনে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ যদি মৃদু বা মাঝারি হয়, তবেই নির্দিষ্ট ডোজে এই ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে।
চিন, জাপান, ইতালিতে করোনা রিকভারি ট্রায়ালে ফ্যাভিপিরাভিরের রিপোর্ট ভালর দিকে থাকায় দেশেও এই ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করেছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং সরকারি সংস্থা সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ তথা সিএসআইআর। করোনা থেরাপির সলিডারিটি ট্রায়ালে রেমডেসিভির, টোসিলিজুমাবের মতো ফ্যাভিপিরাভিরের প্রয়োগও সম্মতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ইতিমধ্যেই এই ওষুধের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল করছে মুম্বইয়ের গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস। এই ট্রায়ালের রিপোর্ট সন্তোষজনক হওয়ায় করোনা চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে ফ্যাভিপিরাভিরের প্রয়োগে অনুমোদন দিল ড্রাগ কন্ট্রোল।

ফ্যাভিপিরাভির হল অ্যান্টি-রেট্রোভিয়াল ড্রাগ। আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতাকে আটকে দিতে পারে। সাধারণত দেখা যায়, আরএনএ ভাইরাস তাদের সংক্রামক ভাইরাল প্রোটিন মানুষের দেহকোষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রামক আরএনএ স্ট্রেন কোষের ACE-2 রিসেপটরের মাধ্যমে ভেতরে ঢুকে বিভাজিত হতে শুরু করে। এই বিভাজন প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে পারে অ্যান্টি-রেট্রোভিয়াল ওষুধ ফ্যাভিপিরাভির।
এই ওষুধ বানিয়েছে জাপানের ফুজিফিল্ম টোয়ামা কেমিক্যাল। এই ড্রাগের ব্র্যান্ড নাম হল ‘অ্যাভিগান’ । ২০১৪ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপ যখন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখন এই ওষুধ বানিয়েছিল জাপানের অন্যতম বড় ফার্মাসিউটিক্যালস ফুজিফিল্ম। ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে এই ড্রাগ কার্যকরী। হলুদ জ্বর, হাত ও পায়ের যে কোনও ভাইরাল ইনফেকশন কমাতে পারে এই ওষুধ। চিন, জাপান, রাশিয়া এবং পশ্চিম এশিয়ার কিছু দেশে কোভিডের মোকাবিলায় সম্ভাব্য ওষুধ হিসেবে এর পরীক্ষা হয়েছে। তাতে ইতিবাচক ফলও মিলেছে বলে ট্রায়ালের রিপোর্টে জানিয়েছে ফুজিফিল্ম।
আইসিএমআরের উদ্যোগে দেশে প্রথম গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালসই এই ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করে। জানা গেছে, করোনা রোগীদের ১৪ দিনের ডোজে ফ্যাভিপিরাভিরের থেরাপি করা হবে। সংক্রমণ যদি মাঝারি হয় তাহলে প্রথম দিনে ৩৬০০ মিলিগ্রাম ওষুধের ডোজ দেওয়া হবে। এর পর থেকে ১৪ দিন ১৬০০ মিলিগ্রাম করে ওষুধের ডোজ দেওয়া হবে। তবে সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে, রোগীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষানিরীক্ষার পরেই ওষুধের ডোজের মাত্রা ঠিক করবেন বিশেষজ্ঞরা।
রেমডেসিভির, ইন্টারফেরন, টোসিলিজুমাবের. ফ্যাভিপিরাভিরের পাশাপাশি করোনা চিকিৎসার সলিডারিটি ট্রায়ালে ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধী
উমিফেনোভির ওষুধেও সম্মতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল। লখনৌতে সিএসআইআরের
সেন্ট্রাল ড্রাগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিডিআরআই) ল্যাবরেটরিতে উমিফেনোভির ওষুধ নিয়ে গবেষণা চলছে। এই ওষুধের ফেজ-৩ ট্রায়াল হবে লখনৌয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি, ড. রাম মনোহর লোহিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স এবং লখনৌ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।