দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সপ্তাহে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ। সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছিল জনতা। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের ওপরে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এরপরে রামপুরে ২৮ জনের কাছে গেল সরকারি নোটিস। তাঁদের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে নানা হিংসাত্মক ঘটনায় রামপুরে মোট ১৪.৮৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হামলা চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করেও তারা ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশও লাঠিচার্জ করে। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। গুলিতে একজন নিহত হন। তাঁর বয়স ছিল ২২। এরপর শহরে চারটি মোটর সাইকেল ও পুলিশের ভ্যানে আগুন লাগানো হয়। হাঙ্গামা করার অভিযোগে ৩১ জন গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ খুঁজছে আরও দেড়শ জনকে।
সম্প্রতি যে ২৮ জনের কাছে নোটিস পাঠানো গিয়েছে, তাদের বলা হয়েছে, পুলিশের হেলমেট ও ব্যাটনের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করার জন্য তোমাদের টাকা দিতে হবে। এর আগে উত্তরপ্রদেশের মুজফফর নগরে ৬০ টিরও বেশি দোকান বন্ধ করে দেয় সরকার। অভিযোগ ওই দোকানের মালিকরা হিংসায় অংশ নিয়েছিলেন।
লখনৌয়ে কারা পুলিশের উপরে চড়াও হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে চার সদস্যের একটি কমিটি। এই কমিটিতে রয়েছেন ফিরোজাবাদের জেলাশাসক চন্দ্র বিজয় সিং। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁরা হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।
বেশ কয়েকটি জেলা প্রশাসন ও জেলাপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই দাঙ্গাবাজদের চিহ্নিত করার কাজ তাঁরা শুরু করে দিয়েছেন।
মুজফফর নগরে সরকারের দ্রুত এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ হয়েছে। তবে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছিল তাকেই হাতিয়ার করেছে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য প্রশাসন। ওই রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, কোনও ব্যক্তি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, তাকেই সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ব্যাপারে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সরকারি সম্পত্তির যারা ক্ষতি করবে, তাদের ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিও দিতে বলেছিল সর্বোচ্চ আদালত।
জেলাপ্রশাসন যে পদক্ষেপ করছে, আদালতে সেই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানানো যেতেই পারে। কিন্তু সরকারের এই পদক্ষপ হামলাকারীদের সতর্ক করবে বলে মনে করছে প্রশাসন।