দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাঙাচোরা বাড়ির থামের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা এক দলিত যুবক। লাঠি নিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয়েছেন কয়েক জন। মারতে মারতে আধমরা করে ফেলা হচ্ছে যুবককে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মাটি। যন্ত্রণা আরও কয়েকগুণ বাড়াতে তাঁর মুখে বারে বারেই ঢেলে দেওয়া হচ্ছে প্রস্রাব। কখনও বেধড়ক মারধর, জুতো চাটানো, জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া—দলিত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেই চলেছে দেশের নানা প্রান্তে। ফের এমনই এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষ্মী হল পঞ্জাব।
এই ঘটনা ঘটে গত ৭ নভেম্বর। পঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলায়। পুলিশ সুপার সন্দীপ গর্গ জানিয়েছেন, স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়েই ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়। এলাকার লোকজন তাঁর আর্তনাদ শুনলেও এগিয়ে গিয়ে বাঁচানোর সাহস পাননি। যুবককে যখন উদ্ধার করা হয় তাঁর অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। জামা-কাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছিল, বেধড়ক পিটিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল হাত-পা। সাঙ্গরুরের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালে এতদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন যুবক। তাঁর দুই পা কেটে বাদ দিতে হয়েছিল। আজ, শনিবার সকালে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর।
কী কারণে এই নির্যাতন সেটা এখনও স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে। ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনা ঘটিয়েছে এলাকারই এক দুষ্কৃতী দলের পান্ডা রিঙ্কু ও তার শাগরেদরা। এর আগেও এলাকায় কয়েকজন দলিত যুবকের উপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে।
নির্যাতিত দলিত যুবক চাঙ্গালিওয়ালা গ্রামের বাসিন্দা। বয়স ৩৭ বছর। তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নাকি দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিচ্ছিল রিঙ্কুর দলবল। তা ছাড়া পুরনো কোনও বিবাদের কারণও ছিল। যুবক গ্রাম ছাড়তে রাজি না হওয়ায় গত ২১ অক্টোবর তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আটকে রাখা হয় গ্রামের প্রান্তে এক নির্জন, ভাঙাচোরা বাড়িতে। যুবক জানিয়েছে, প্রতিদিনই মারধর করা হত তাঁকে। প্রস্রাব খেতে বাধ্য করা হত। মৃত্যুর আগে বয়ানে যুবক বলেছিলেন, “লাঠি, রড দিয়ে আমাকে প্রতিদিন মারত ওরা। জল খেতে চাইলে জোর করে প্রস্রাব খাইয়ে দেওয়া হত।” পুলিশ উদ্ধার না করলে ঘটনার দিনই তাঁকে মেরে ফেলারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুষ্কৃতীরা।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, জোর করে আটকে রাখা, খুনের চেষ্টা-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধি ও তফসিলি জাতি-উপজাতি নির্যাতন রোধ আইনের নানা ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।