দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বৃহস্পতিবার রাতে বরাবাঁকি জেলায় শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিল দলিত যুবক সুজিত কুমার। তার বয়স ২৮ বছর। পথে কুকুররা তাকে তাড়া করে। তাদের ভয়ে সে রাঘবপূর্বা গ্রামের এক চালাঘরের নীচে লুকোয়। কুকুরের ডাক শুনে কয়েকজন গ্রামবাসী উঠে পড়ে। তারা দেওয়ালের আড়ালে সুজিতকে লুকিয়ে থাকতে দেখে ভাবে চোর। তাকে পাকড়াও করে মারধর দিতে থাকে।
ক্রমে গ্রামের সবাই সেখানে জড়ো হয়। তার জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়। বেধড়ক মারধর করা হয়। কয়েকজন গ্রামবাসী তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। বরাবাঁকির পুলিশ সুপার আকাশ তোমর জানিয়েছেন, তার দেহের ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এছাড়া শরীরে অন্য আঘাতও ছিল। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। শনিবার তাকে লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
সিভিল হাসপাতালের চিফ মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট আশুতোষ দুবে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার সময় সুজিতের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। তাঁর হাঁটুর নীচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছিল। সেই ঘায়ে সংক্রমণ হয়। ঘা সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়। এর ফলে তার মৃত্যু হয়।
সুজিতকে খুনের দায়ে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তোমর বলেছেন, আমরা চেষ্টা করছি যারা এই ধরনের গণপিটুনির সঙ্গে জড়িত, তারা যেন শাস্তি পায়। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নিহত সুজিতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।