দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দলিত যুবক ও তাঁর ভাইকে বেধড়ক পিটিয়ে তাঁদের কুঁড়েঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া জেলায়! পুলিশ জানিয়েছে, শনিবারের এই ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের একটি দল জড়িত। দু’বছর আগে ওই দলিত পরিবারের তরফে দায়ের হওয়া একটা পুলিশ কেস তুলে নিতে তাঁরা রাজি না হওয়ায় তাঁদের উপর এই নারকীয় অত্যাচার চলে বলে জানা গেছে স্থানীয় সূত্রে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে দলিত যুবক সন্দীপ দোহারের ভাই সন্তরাম দোহারে পবন যাদব নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন মজুরির টাকা দেওয়া নিয়ে। পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিটও এনেছিল, উপজাতি অধিকার আইনে।
এর পর থেকেই সন্তরাম দোহারের উপর অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে যাদব পরিবার। কিন্তু সন্তরাম কিছুতেই রাজি হননি। অভিযোগ, নানা ভাবে চাপ দিয়ে হুমকি দিয়েও যখন কাজ হয়নি, তখনই শেষমেশ পবন যাদব ও তাঁর দলবল চড়াও হয় দোহারের বাড়িতে। প্রহৃত পরিবারের দাবি, যাদবের দলের লোকেদের হাতে বন্দুক ছিল। সেই বন্দুকের বাঁট দিয়ে মারধর করে তারা। তার পরে আগুন লাগিয়ে দেয় কাঁচা বাড়িতে।
পুলিশ জানিয়েছে, পবন যাদব, তার ভাই কাল্লু যাদব, তাদের চার আত্মীয় এবং একজন প্রতিবেশী মোটরবাইকে করে আরও ১০-১২ জনের একটি দল নিয়ে দোহারের বাড়িতে পৌঁছয় শনিবার দুপুরে। জানা গেছে, বাড়ির বাইরে তারা চেঁচামেচি করতে থাকে। সন্তরাম দোহার এবং তাঁর দাদা সন্দীপ দোহার বাইরে বেরিয়ে এলেই বন্দুকের বাঁট দিয়ে ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে তারা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, শূন্যে গুলিও চালায় পবন যাদবের ওই দল। আগুন লাগিয়ে দেয় দোহারদের বাড়িতে। এর পরেই স্থানীয়রা ছুটে আসেন। আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, পাল্টা আক্রমণ করেন পবন যাদবের দলকে। তিনটি বাইক আটকে রাখেন তাঁরা। বাকি বাইকগুলি নিয়ে অভিযুক্ত আক্রমণকারীরা পালিয়ে যায়।
পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে সন্দীপ ও সন্তরামকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁদের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি তাঁরা দু’জনই।
তবে এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। এই বছরেই জানুয়ারি মাসে এই মধ্যপ্রদেশেরই সাগর শহরে ২৪ বছরের এক দলিত যুবক নিহত হন জীবন্ত দগ্ধ হয়ে। চার প্রতিবেশী পুড়িয়ে মারে তাঁকে, কারণ তিনিও একটি পুলিশি অভিযোগ প্রত্যাহার করতে রাজি হননি।