
শেষ আপডেট: 30 November 2023 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে দক্ষিণ আন্দামান সাগরে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে এই নিম্নচাপ। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বদলে যাবে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ অবধি এই নিম্নচাপ উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর থিতু হবে। ২ ডিসেম্বর তা ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিতে পারে।
ওড়িশা সরকার ইতিমধ্যেই নিম্নচাপ এবং সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সাতটি উপকূলীয় জেলাকে সতর্ক করেছে। বালাসোর, ভদ্রক, কেন্দ্রাপাড়া, জগৎসিনপুর, পুরী, খুড়দা এবং গঞ্জামের জেলাশাসকদের সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন সমুদ্র ভয়াল রূপ ধারণ করতে পারে। রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই সময় মৎসজীবীদেরও গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
আগামী পাঁচ দিন হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কড়াইকাল, কেরল ও মাহেতে। বাংলার উপকূলীয় জেলাগুলিতেও বৃষ্টি হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল কোথায় হবে তা এখনও জানা যায়নি। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার বঙ্গোপসাগরেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে এই নিম্নচাপ। এর অভিমুখ হবে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে। এরপরেও গতিপথ পরিবর্তন করার সম্ভাবনা আছে। শক্তি আরও বাড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের। অনুমান করা হচ্ছে, অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল থেকে বাংলাদেশে উপকূলের কোনও একটি জায়গায় ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম আছড়ে পড়তে পারে।
নিম্নচাপের জেরে এই সপ্তাহের শেষ থেকে বাংলায় আবহাওয়া বদলের সম্ভাবনা আছে। এমনিতেও শীত থমকে গেছে। নিম্নচাপের গেরোয় তাপমাত্রা বাড়ছে। কলকাতায় দিনের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির উপরেই থাকছে। রাতেও তেমনভাবে ঠান্ডা পড়ছে না। তবে নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে বদলে গেলে এর দাপটে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেও ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে তুমুল ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। আজ ও আগামিকাল মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে হাওয়া অফিস। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় শনিবার অবধি হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। একইভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্য বঙ্গোপসাগরে আজ থেকে শনিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে মানা করা হয়েছে।