দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের আবহাওয়া দফতরের শেষ খবর অনুযায়ী তীব্র ঘূর্ণি ঝড়ের আকার নিয়ে ফণী আগামী ৪ মে ভোর রাতে আঘাত হানতে চলেছে ওড়িশার উপকূলে। প্রথম থেকেই ফণীর সম্ভাব্য গন্তব্য নিয়ে একাধিক জায়গার নাম শোনা গেলেও এই প্রথম আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে স্পষ্ট করে ওড়িশার উপকূলের নাম ঘোষণা করা হল। আপাতত ঘূর্ণি ঝড়টি চেন্নাইয়ের ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ঘণ্টায় ১৮ কিমি বেগে ঝড়টি এগোচ্ছে। স্থলভূমির যত নিকটবর্তী হবে ততই তার গতিবেগ বাড়তে শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া দফতর থেকে।
এখনও পর্যন্ত ফণীর গতির অভিমুখ রয়েছে তামিলনাড়ুর উত্তর ও অন্ধ্রের দক্ষিণ উপকূলের উত্তর–পশ্চিম বরাবর। ১ মে'র পরই ঘূর্ণি ঝড়টি উত্তর–পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ধেয়ে যাবে ওড়িশার উপকূলের দিকে বলে মনে করা হচ্ছে। ''এখনও পর্যন্ত যা তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে তার ফলে আমাদের মনে হচ্ছে ৩ মে রাতের দিকে অথবা ৪ মে ভোর বেলায় ঘূর্ণি ঝড়টি ওড়িশার উপকূলে আছড়ে পড়বে। ঝড়টির বর্তমান গতিবিধি দেখে মনে করা হচ্ছে ঝড়টি পুরীর আশেপাশে আঘাত হানতে পারে। তবে আরও নির্দিষ্ট করে বলা যাবে আগামিকাল।'' ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পরিষেবা প্রধান মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র একথা সাংবাদিকদের জানান। স্থলভূমিতে প্রবেশ করার সময় ঝড়ের গতিবেগ বেড়ে ঘণ্টায় ১৭০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও তারপরই খুব দ্রুত সেই গতিবেগ কমে ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়বে।
প্রাথমিক ভাবে পূর্বাভাষ ছিল যে, ঘূর্ণি ঝড় ফণী তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশেই আঘাত হানবে। এই দুই রাজ্যেরই উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। আজ মঙ্গলবার সেই বাতাসের গতিবেগ বেড়ে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
ক্যাবিনেট সচিব পিকে সিনহা'র নেতৃত্বে ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজেন্ট কমিটি ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেছেন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও উপকূল রক্ষীদের চূড়ান্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে।