দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ফণী'র দাপটে পিছু হটল নির্বাচন কমিশন। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন যাতে আসন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে পারে সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে চরম তীব্র ঘূর্ণী ঝড়ের পূর্বাভাষ থাকায় ওড়িশায় সারা রাজ্য জুড়ে জারি হয়েছে 'হলুদ সতর্কতা' বা 'ইয়লো অ্যালার্ট'। যার অর্থ তীব্র প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে স্থানান্তরে গমনাগমন এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যহত হওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওযার বার্তা। মঙ্গলবার রাতেই ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, আসন্ন ঘূর্ণি ঝড়টি চরম তীব্র ঘূর্ণি ঝড়ে পরিণত হয়েছে। শুধু ওড়িশা নয়, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গেও জারি করা হয়েছে চরম সতর্কতা।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণি ঝড় 'ফণী'র জন্য ওড়িশার পুরী, জগৎসিংপুর, কেন্দ্রপাড়া, ভদ্রক, বালেশ্বর, ময়ূরভঞ্জ, গজপতি, গঞ্জাম, খুর্দা, কটক এবং জাজপুর জেলাগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি লাঘব করা হয়েছে। ঝড়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এলাকায় যাতে দ্রুত উদ্ধার, ত্রাণ, মেরামতি ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা যায় তারই জন্য এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। আদর্শ নির্বাচন বিধিতে মেরামতি ও পুনর্গঠনের কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকে। সমুদ্র তীরবর্তী মন্দিরনগরী পুরী থেকে পর্যটকদের চলে যাওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শুক্র ও শনিবার কেউ যাতে বাইরে না বেরোয় সে ব্যাপারে প্রশাসনের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের ২৮ টি দল ওড়িশায় পৌঁছে গিয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যের জন্য জাহাজ ও হেলিকপ্টার নিয়ে উপকূল রক্ষী বাহিনী ও নৌ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।
সমগ্র পরিস্থিতির পর্যালোচনা করার জন্য ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি মঙ্গলবার বৈঠক করেছে। ঘূর্নি ঝড়ের ফলে গঞ্জাম, গজপতি, খুর্দা, পুরী, জগৎসিংপুর জেলা সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 'ফণী'র স্থলভূমি স্পর্শ করার সময় সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা স্বাভাবিকের থেকে ১.৫ মিটার বেশি হবে বলে পূর্বাভাস। ফলে গঞ্জাম, খুর্দা, পুরী এবং জগৎসিংপুরের নিচু অঞ্চলগুলিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে।
ট্রেন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা। যে ট্রেনগুলি ভুবনেশ্বর, পুরী, বিশাখাপত্তনম এবং দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য স্টেশন ছুঁয়ে যাচ্ছে বা সেখানে যাত্রা শুরু বা শেষ করছে সেই ট্রেনগুলির চলাচলের ক্ষেত্রে বাতিল অথবা নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিল ইস্ট কোস্ট রেলওয়ে। ফলে আগামী কয়েকদিন ঘূর্ণি ঝড় আক্রান্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে চলা ট্রেন বাতিল বা চলাচলের সময় ও যাত্রাপথের পরিবর্তন হতে পারে বলে সূত্রের খবর। আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে ব্রেক ডাউন ভ্যান, রিলিফ ট্রেন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিয়ালদহ ও হাওড়া শাখার ইএমইউ পরিষেবার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে পরিবর্তন হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে।