
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 21 December 2024 10:30
সুমন বটব্যাল
সালটা ২০২০-২১। কোভিড সচেতনতায় মোবাইলে রিং বা কলার টিউনের পরিবর্তে প্রথমে শোনা যেত, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে। টিকা নেওয়ার সময়ও একই ধারা দেখা গিয়েছিল। তখন কাউকে মোবাইলে ফোন করলেই রিং হওয়ার আগে ভেসে উঠত প্রধানমন্ত্রী মোদী বা বলিউডের বিগ বি অমিতাভ বচ্চনের ভারী কন্ঠের সতর্কবার্তা।
অনেকটা সেই স্টাইলেই এবার সাইবার জালিয়াতি রুখতে সরকারের তরফে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গত কয়েকদিন ধরে মোবাইলে ফোন করলেই রিং হওয়ার আগে কোভিড সময়ের মতো সতর্কবার্তা শোনা যাচ্ছে। বাংলা এবং হিন্দিতে যা বলা হচ্ছে, তার মমার্থ- অজানা নম্বর থেকে পুলিশ, সিবিআই বা কাস্টমসের নাম করে কোনও থেকে ভিডিও কল এলে ফোনটি ধরবেন না। এ ব্যাপারে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে এ সম্পর্কিত টোল ফ্রি নম্বর ১৯৩০ তে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগ ঘিরে একটি অংশের মানুষের মধ্যে যেমন সচেতনতা তৈরি হচ্ছে তেমনই একটি অংশের মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশও তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রেনে, বাসেও চর্চা শুরু হয়েছে। তবে কি সাইবার জালিয়াতির সংখ্যা মাত্রাধিকভাবে বেড়ে গেছে, উৎকণ্ঠা বাড়ছে জনমানসে।
মোবাইলের মাধ্যমে কীভাবে সাইবার প্রতারণা করা হয়?
গোয়েন্দারা বলছেন, নিজেদের দিল্লি বা মুম্বইয়ের সাইবার বিভাগ বা কাস্টমসের অফিসার পরিচয় দিয়ে অজানা অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে গ্রাহকদের নানাভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। হয় তাদের থেকে ব্যাঙ্ক বা আধার-প্যানের ডিটেলস চেয়ে নেওয়া হচ্ছে অথবা ভয় দেখিয়ে বলা হচ্ছে যে তাদের অনেক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ধরা পড়েছে বা তারা বেনামে অজস্র সিমকার্ড রেখে প্রতারণা করছে।
গ্রাহকরা বিশ্বাস না করলে তাদের আরবিআই বা কাস্টমসের স্ট্যাপ দেওয়া ভুয়ো সরকারি নথি দেখিয়ে বিশ্বাস করানো হচ্ছে। এরপর চেয়ে নেওয়া হচ্ছে তাদের জরুরি ও ব্যক্তিগত তথ্য। পরিচয় পত্র, ব্যাঙ্ক, আধারের ডিটেলস নিয়েই প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে গ্রাহকদের।
সম্প্রতি খাস কলকাতায় ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। বাগুইআটি থানা এলাকার ঘটনা। হাউস অ্যারেস্টের হুমকি দিয়ে অনলাইনে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারিত ব্যক্তি বিশ্বরূপ ঘোষ সেলস ট্যাক্সের প্রাক্তন অফিসার। ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হয়েছেন ত্রিপুরার অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য অধিকর্তা কানুলাল ভৌমিক। তিন দফায় প্রতারকরা তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে দুটি ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম দফতর।
সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, সারা দেশের বিভিন্ন শহরে যতবার সাইবার প্রতারণার জাল বিছানো হয়েছে, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম তিন মাস, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই শহরে প্রায় ৭১ লক্ষ বার সাইবার প্রতারণার (Cyber Crime) জাল বিছানো হয়েছে। তাতে পা দিয়ে বহু মানুষ তাঁদের সর্বস্ব খুইয়েছেন। ইদানীং এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। যে কারণে এবার মোবাইলের মাধ্যমে জনমানসে বাড়তি সতর্কতা তৈরির চেষ্টা করছে সরকার।
সতর্কবার্তায় বলা হচ্ছে, এই ধরনের ফোন এলে ভয় পেয়ে নিজের কোনও তথ্য শেয়ার করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করতে পারবে পুলিশ প্রশাসন।