
সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 1 July 2024 20:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোপড়ায় তরুণ-তরুণীকে নৃশংসভাবে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ আছে কিনা সেই প্রশ্ন তুলে দিলেন তিনি। রাজ্যপালের অভিযোগ, পুলিশের একটা বড় অংশে অপরাধবোধ ঢুকে গেছে। কে চোর আর কে পুলিশ সেটাই মাঝেমধ্যে বোঝা যাচ্ছে না। বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন রাজ্যপাল বোস। রাজ্যে ফিরে তিনি চোপড়া যাবেন বলে রাজভবন সূত্রে খবর।
‘ইনসাফ সভা’ ডেকে ওই দুজনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। সেই তৃণমূল নেতা এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে, তার নাম জেসিবি ওরফে তাজেমুল। এলাকার বিধায়ক হামিদুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সে। বিজেপি ইতিমধ্যেই দাবি করেছে, বাংলায় তালিবানি শাসন চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কোনও মহিলা রাজ্যে সুরক্ষিত নন। রাজ্যপালের কথাতেও কার্যত একই সুর শোনা গেছে।
এক ভিডিও বার্তায় সিভি আনন্দ বোস বলেন, ''বাংলার প্রতিটি ক্ষেত্রে এখন খুন, ধর্ষণ, মারধরের ঘটনা ঘটে। বাংলার রাস্তায় রক্ত ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। আর গ্রামগুলিতে মৃত্যুমিছিল হচ্ছে প্রতিদিন।'' এই প্রসঙ্গেই রাজ্যের পুলিশকে তুলোধনা করেন রাজ্যপাল। প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় কি কোনও পুলিশবাহিনী রয়েছে? রাজ্যপালের কথায়, ''খাতায়-কলমে পুলিশ রয়েছে কিন্তু চোর আর পুলিশের মধ্যে পার্থক্য কমে আসছে। পুলিশের একটা বড় অংশ এমনকী কয়েকজন আইপিএস, আইএএস অফিসারদের মধ্যে অপরাধবোধ ঢুকে গেছে।''
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই তরুণ-তরুণী চোপড়ার লক্ষ্মীপুর গ্রামে দীঘলগাঁও এলাকায় বাসিন্দা। ভিডিওয় দেখা যাওয়া তরুণী একজন বিবাহিত গৃহবধূ। ভিডিওয় যে যুবককে মার খেতে দেখা যাচ্ছে, তার সঙ্গে মেয়েটির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে শোনা যায়। অভিযোগ, এই নিয়ে গ্রামে জানাজানি হতেই ডাকা হয় এক সালিশি সভা। সে সভা ডাকার ভূমিকায় ছিল ‘জেসিবি’।