
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
শেষ আপডেট: 2 May 2024 21:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে রাজভবনেরই এক মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
রাজ্যের ইতিহাসে যা বিরতলতম ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, এর আগে বাংলার কোনও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এই ধরনের কোনও গুরুতর অভিযোগ ওঠেনি।
ইতিমধ্যে হেয়ার স্ট্রিট থানায় গিয়ে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা। এ ব্যাপারে রাজভবনের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে রাজভবন সূত্রের খবর, যে মহিলা রাজ্যপাল বোসের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন তিনি রাজভবনেরই একজন অস্থায়ী কর্মী।
পুলিশকে ওই মহিলা জানিয়েছেন, গত ১৯ এপ্রিল সিভি নিয়ে রাজ্যপাল তাঁকে দেখা করতে বলেন। ২৪ এপ্রিল রাজ্যপালের চেম্বারে যান তিনি। সেদিন কুপ্রস্তাব এবং শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ।
তবে সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে সে সময় তিনি বিষয়টি কাউকে জানাননি বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন। মহিলার আরও দাবি, ২ মে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ফের তাঁকে দেখা করতে বলেন রাজ্যপাল। আগের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন অবশ্য ওই মহিলা সুপার ভাইজারকে নিয়ে বোসের চেম্বারে গিয়েছিলেন বলে দাবি।
পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যপাল সুপারভাইজারকে বেরিয়ে যেতে বলেন। এরপর আলোচনার নামে ১৯ এপ্রিলের মতো ফের তাঁকে এদিন রাজ্যপাল কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ। এমনকী শ্লীলতাহানিও করেন।
পুলিশের কাছে মহিলার অভিযোগ, রাজ্যপাল তাঁকে স্থায়ী পদে নিযুক্ত করার টোপও দেন।
পুলিশকে ওই মহিলা জানিয়েছেন, তিনি কোনও মতে সেখান থেকে বেরিয়ে রাজভবনের পুলিশ আউটপোস্টে যান। তাঁরা তাঁকে হেয়ারস্ট্রিট থানায় যেতে বলেন। এরপরই সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যপাল যেহেতু সাংবিধানিক প্রধান তাই তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। সংবিধানের ৩৬১ ধারায় কর্মরত রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। তাঁকে গ্রেফতারও করা যায় না। শুধুমাত্র এব্যাপারে রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। ফলে মহিলা অভিযোগ জানালেও পুলিশ কী পদক্ষেপ করবে তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সব মহলে।
রাজভবন সূত্রের খবর, ২০১৯ সাল থেকে ওই মহিলা রাজভবনে অস্থায়ী পদে কর্মরত। তিনি রাজভবনের হস্টেলেই থাকতেন।
তবে এ ব্যাপারে এখনও রাজভবন থেকে অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি।