
সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 2 July 2024 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোপড়ায় তরুণ-তরুণীকে বেধড়ক মারধরের যে ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা করে নয়াদিল্লি থেকে বার্তা দিয়েছিলেন বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজভবন সূত্রে জানা গেছিল, তিনি রাজ্য ফিরে চোপড়ায় যাবেন। তবে মঙ্গলবার তিনি রাজ্যে এসেও চোপড়া সফর বাতিল করলেন। কেন, সেই কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে ছিলেন রাজ্যপাল বোস। সেখানে সার্কিট হাউজে কয়েকদিন আগে কোচবিহারে যে মহিলা বিজেপি কর্মীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কথা বলেন তাঁর পরিবারের সঙ্গেও। তবে চোপড়ার নির্যাতিতরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাননি। এদিকে শিলিগুড়ি এসেও রাজ্যপাল কেন চোপড়া গেলেন না, তা স্পষ্ট হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যে এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে সেখানে তৃণমূলের প্রভাব বেশি। তাই তাঁকে ঘিরে কর্মসূচি হতে পারে, এই ভেবেই রাজ্যপাল আর সেখানে যাননি।
শিলিগুড়ির সার্কিট হাউজ থেকেই এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সোমবারের মতো তিনি এদিনও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছেন চোপড়ার ঘটনায়। তাঁর সাফ কথা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই বাংলায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। রাজ্যে পরপর যে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে তার জন্য তিনিই দায়ী। রাজ্যপালের দাবি, বাংলায় রাজ্য সরকারের মদতেই হিংসার ঘটনা ঘটে।
ইতিমধ্যেই চোপড়ার ঘটনায় রাজ্যের থেকে রিপোর্ট তলব করেছেন বোস। রিপোর্টে জানতে চাওয়া হয়েছে কোথায়, কবে এই ঘটনা ঘটেছে? ঘটনার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা কী ছিল? ইত্যাদি নানা বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন আনন্দ বোস।
চোপড়ায় ‘ইনসাফ সভা’ ডেকে দুজনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। সেই তৃণমূল নেতা এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে, তার নাম জেসিবি ওরফে তাজেমুল। এলাকার বিধায়ক হামিদুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সে। বিজেপি ইতিমধ্যেই দাবি করেছে, বাংলায় তালিবানি শাসন চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কোনও মহিলা রাজ্যে সুরক্ষিত নন। রাজ্যপালের কথাতেও কার্যত একই সুর শোনা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই তরুণ-তরুণী চোপড়ার লক্ষ্মীপুর গ্রামে দীঘলগাঁও এলাকায় বাসিন্দা। ভিডিওয় দেখা যাওয়া তরুণী একজন বিবাহিত গৃহবধূ। ভিডিওয় যে যুবককে মার খেতে দেখা যাচ্ছে, তার সঙ্গে মেয়েটির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে শোনা যায়।
এই ঘটনার প্রসঙ্গে রাজ্যের পুলিশকেও তুলোধনা করেন রাজ্যপাল বোস। প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় কি কোনও পুলিশবাহিনী রয়েছে? রাজ্যপালের কথায়, ''খাতায়-কলমে পুলিশ রয়েছে কিন্তু চোর আর পুলিশের মধ্যে পার্থক্য কমে আসছে।''