দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি বছরের শুরুতে কেরলের তিরুবনন্তপুরম বিমান বন্দর দিয়ে ৩০ কেজি সোনা পাচারের চেষ্টা হয়েছিল। কূটনৈতিক চ্যানেল দিয়ে ওই সোনা আনতে গিয়ে ধরা পড়ে এক ব্যক্তি। সোনা চোরাচালানের মামলায় কেরলের মন্ত্রী কে টি জলিলকে নোটিশ পাঠাল শুল্ক দফতর। আগামী সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে শুল্ক দফতরের অফিসে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দূতাবাসের মাধ্যমে সোনা আনার চেষ্টা হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে সোনা চোরাচালানের মামলায় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এবং এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি দাবি করেন, ওই মামলার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও একই কথা বলেন। যদিও বিরোধী দলগুলি দাবি করেছিল, জলিলকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, "আমি কোনও মামলায় অভিযুক্ত নই। কয়েকটি ব্যাপারে জানার জন্য এনআইএ এবং ইডি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিল। আমি যা জানি তাদের বলেছি। বিরোধীরা সুবিধাবাদী। তাই তারা আমার পদত্যাগ দাবি করছে।"
গত জুলাইতে একটি কল রেকর্ড মিডিয়ায় ফাঁস হয়। তাতে দেখা যায়, সোনা চোরাচালানে অন্যতম অভিযুক্ত স্বপ্না সুরেশের সঙ্গে ফোনে বহুবার কথা হয়েছে মন্ত্রীর। স্বপ্না সুরেশকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তিনি গত অক্টোবর মাসে জামিন পেয়েছেন।
এনআইএ-র তদন্তকারী অফিসাররা বলেছেন, পাচারকাণ্ডে বড়সড় যোগ থাকতে পারে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি দাউদ ইব্রাহিমের। এনআইএ-র দাবি, জঙ্গি কার্যকলাপের জন্যই দুবাই থেকে সোনা পাচার হচ্ছিল কেরলে। আর এই পাচারকাণ্ডে দুবাইয়ের মাফিয়া ডনের দলবল জড়িত থাকা অসম্ভব নয়।
এই সন্দেহের আরও একটা কারণ হল, পাচারকাণ্ডে ধৃত রামিসকে জেরা করে এমনই কিছু তথ্য পেয়েছে এনআইএ। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, জেরায় রামিস বলেছে তানজানিয়ায় তার হিরের ব্যবসা ছিল। আমিরশাহিতে দীর্ঘদিন ধরেই সোনা বিক্রি করত সে। এই সোনাই ঘুরপথে কেরলে পাচার করা হচ্ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোনা পাচারকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। পাচারকাণ্ডে নাম জড়িয়েছে আমিরশাহি দূতাবাসের কর্মী ফয়সাল ফরিদের। তাকে ধরার জন্য আগেই ব্লু কর্নার নোটিস জারি করার জন্য ইন্টারপোলকে আর্জি জানিয়েছিল এনআইএ। তদন্তকারী অফিসাররা বলছে, যে সিন্ডিকেটটি কূটনৈতিক সুরক্ষার আড়ালে এই পাচার চক্র চালাচ্ছিল তাদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে।