দ্য ওয়াল ব্যুরো: সভ্য সমাজে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ১৯৮৮ সালে ওড়িশায় পুলিশি হেফাজতে মার খেয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানায়, এই অপরাধ শুধু আক্রান্তের প্রতি নয়, এই অপরাধ আসলে মানবতার বিরুদ্ধে। সংবিধানের বিরুদ্ধে।
বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং অজয় রাস্তোগির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের রায় দেওয়া হয় তাতে। পাশাপাশি বলা হয়, "পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন করে মারা সভ্য সমাজের পরিপন্থী। মানুষ থানায় যায় নিরাপত্তা পেতে, সুরক্ষিত হতে। যা কিছু আইন-বিরোধী, তা থেকে মানুষকে বা সম্পদকে বাঁচানোই পুলিশের কাজ। পুলিশ হয় ধৃতকে ছেড়ে দেবে, নয় আইনের হাতে তুলে দেবে। কিন্তু এই দুইয়ের বাইরে পুলিশ যখন নিজেই বর্বর, অমানবিক আচরণ করে, তখন সেটা ভাবনার বিষয়।"
১৯৮৮ সালে ওড়িশার পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছিল এক ব্যক্তির। অভিযোগ উঠেছিল, ডিউটিতে থাকা দুই পুলিশ অফিসার নির্মম ভাবে পিটিয়েছিল তাঁকে, যার ফলে মারা যান তিনি। ওই দুই অফিসার বিচারাধীন ছিলেন। সেই মামলারই শুনানি চলছিল এত বছর ধরে। অভিযুক্ত দুই অফিসার এতদিনে রিটায়ারও করে গেছেন।
তাঁদের তরফেই মামলা দায়ের হয়েছিল সাজা কমানোর আবেদন জানিয়ে। আদালত জানায়, যেহেতু ওই দুই অফিসার ইতিমধ্যেই অনেক দিন জেলে কাটিয়ে ফেলেছেন এবং তাঁদের বয়সও হয়েছে, তাই কারাবাস যতটা হওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে অনেকটাই কমানো হল। কিন্তু মৃতের পরিবারকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের।