নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন: কিছুক্ষণের জন্য কার্ফু শিথিল গুয়াহাটিতে, ফের চালু
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন নিয়ে উত্তপ্ত অসম। গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়ে কার্ফুও জারি করতে হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত কার্ফু শিথিল করা হয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে এক জনের মৃত্যুর জেরে কার্ফু জারি হ
শেষ আপডেট: 13 December 2019 08:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন নিয়ে উত্তপ্ত অসম। গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়ে কার্ফুও জারি করতে হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত কার্ফু শিথিল করা হয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে এক জনের মৃত্যুর জেরে কার্ফু জারি হয়েছিল গুয়াহাটিতে। এই শহরে বৃহস্পতিবার পুলিশের গুলিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় তিন, গুলিতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে বলে খবর।
সোমবার লোকসভায় নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিল পেশ করা হয়। লোকসভার পরে রাজ্যসভাতেও এই বিল পাশ হয়ে যায় বুধবার। বৃহস্পতিবার রাতে এই বিলে সই করেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, ওই দিনই গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে এই বিলকে আইন করে ফেলা হয়।
সংসদে বিল পেশ হওয়া থেকেই অশান্তি শুরু হয় উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন জায়গায়। এই অশান্তির কেন্দ্র হয়ে ওঠে গুয়াহাটি। অসংখ্য গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, ভাঙচুর করা হয় সরকারি ভবন, পথে নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। অসমের অন্তত দশটি জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ও এসএমএস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়, আরও অন্তত ৪৮ ঘণ্টা এই পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে।
বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন উড়ান পরিষেবা, ব্যাহত হয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্তের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও।
[caption id="attachment_167950" align="aligncenter" width="600"]

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্ব ভারতে চলছে প্রতিবাদ[/caption]
অসমের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও গুলি চালিয়েছে পুলিশ। তবে এই রাজ্যে হতাহতের কোনও খবর নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নামানো হয়েছে আধাসেনা।
মেঘালয়েও বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। তারমধ্যেও যেটুকু ছবি বাইরে এসেছে, তাতে দেখা গেছে, রাজধানী শিলংয়ে হাজার হাজার মানুষ পথে নেমেছেন মশাল হাতে। অন্তত দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিলং থেকে আড়াইশো কিলোমিটার দূরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য চপার থেকে নামতেই নিগ্রহ করা হয় মুখ্যমন্ত্রী কারনাড সাংমাকে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের চিন্তার কোনও কারণ নেই বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নাগরিকত্ব পেতে কাউকে ‘রেশন কার্ড বা অন্য কোনও নথি’ হাতের কাছে রাখতে হবে না বলে সংসদে আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তা সত্ত্বেও উত্তর-পূর্ব ভারত কার্যত জ্বলছে।

নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনের প্রতিবাদে অসমে এখন যা পরিস্থিতি তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও। শুক্রবার ভারত সফরের কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার তা বাতিল করে দেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সফর বাতিল করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও। শুক্রবার সকালে জানা যায়, গুয়াহাটি সফর বাতিল করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।