
শেষ আপডেট: 31 January 2020 11:05
ক্রাই মনে করে, কেন্দ্রীয় বাজেটে কয়েকটি বিষয়ের উপরে বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে বিপুল বিনিয়োগের পরামর্শ। দেশে প্রাথমিক শিক্ষার উপরে বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পরেই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার অঙ্গনে প্রবেশ করে পড়ুয়ারা। তাই এই স্তরের শিক্ষার উপরে বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া প্রয়োজন। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মানের উপরেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে ক্রাই।
প্রারম্ভিক শিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপরেও তারা জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ২০১৯ সালের নতুন শিক্ষানীতিতে তিন বছরের প্রারম্ভিক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। এই পর্যায়ে শিক্ষার ভিত তৈরি করার প্রস্তাব রয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই পর্যায়ের কাজ হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ির মাধ্যমে। এ ছাড়া শিশুদের পুষ্টির প্রকৃত অভাবের দিকেও নজর দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ক্রাই।
তাদের আরও কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। যেমন, অল্পবয়সী মেয়েদের মধ্যে স্কুল-ছুটের সংখ্যা বাড়ছে। মাঝপথে তরুণীরা স্কুলের পাট চুকিয়ে দিচ্ছে। আবার অনেক সময় দেখা যায় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই তাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পঞ্চাশ শতাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে নির্দিষ্ট বয়সের আগে তারা মা হয়ে যাচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব তাদের স্বাস্থ্যের উপরে পড়ে। মা নিজেও অপুষ্টিতে ভোগে, তার যে সন্তান হয় সেও অপুষ্টির শিকার হয়, এভাবে চলতেই থাকে। এই ব্যাপারে সরকারের নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করে ক্রাই।
মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ বন্ধের পক্ষেও উপযুক্ত পদক্ষেপের পক্ষে ক্রাই সওয়াল করেছে। ২০১১ সালের জনগণনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিবাহিতের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৭০ লক্ষ। এই সমস্যার মোকাবিলায় চলতি নীতি আরেকবার খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করে তারা। ২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে মাত্র ৩৯৫টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে আরও বেশি করে সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার বলে মনে করে তারা।