
ধর্না মঞ্চে ভিড় বাড়ছে মানুষের।
শেষ আপডেট: 13 October 2024 09:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনিকেত মাহাত, অলোক ভার্মা, অনুষ্টুপ মুখোপাধ্যায়। আরজি করের নির্যাতিতার বিচার চেয়ে আমরণ অনশন করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তিনজন জুনিয়র চিকিৎসক। ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন আরও ৬ জন জুনিয়র চিকিৎসক।
উৎসবের মধ্যেও মানুষের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি পেয়ে নবমীর রাতেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশে জুনিয়র চিকিৎসকদের আহ্বান ছিল, 'আমাদের আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে একাদশীর দিন একবেলা অরন্ধন করুন।' আন্দোলনকারীদের সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে রবিবার সকাল থেকে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়ছে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে।
হুগলির বলাগড় থেকে রবিবার সাত সকালে ধর্না মঞ্চে হাজির বছর চল্লিশের সঞ্জয় রাউত। পেশায় ব্যবসায়ী সঞ্জয়ের কথায়, "আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানাতে সাত সকালে চলে এসেছি। হাফ বেলা না খেয়ে ওদের দাবিকে আরও জোরাল করতে চাই।"
একই বক্তব্য হাওড়ার অনুশ্রী দত্তর। বললেন, "এরা তো আমারও ভাই, বোন। ওরা যদি না খেয়ে টানা ৯দিন ধরে অনশন চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে আমি হাফ বেলা পারব না কেন?"
বস্তুত, মহালয়ার দিন থেকেই শহর কলকাতায় শুরু হয়ে গিয়েছিল পুজো। জেলাতেও মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ভিড় চোখে পড়েছিল প্রথমা থেকে। মানুষ 'উৎসবে ফিরে' যাওয়ায় ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছিল।
কিন্তু ষষ্ঠীর দুপুর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। কলকাতা তো বটেই জেলা থেকেই দূর দুরান্তের মানুষকে ট্রেনে বাসে চড়ে সামিল হতে দেখা গিয়েছিল ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে। নবমীর রাতে তো ধর্মতলার চত্বরে শুধুই কালো মাথার ভিড়। উৎসবের মধ্যে বিপুল মানুষের সাড়া পেয়ে একাদশীর দিন সাধারণ মানুষকে এক বেলা অরন্ধনের আহ্বান জানিয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
আন্দোলনকারীদের তরফে বলা হয়েছিল, "স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যখন অনাহারে, অনশনে থাকতেন, তাঁদের সমর্থনে সাধারণ মানুষ দেশজুড়ে অরন্ধন পালন করতেন। আমাদের তরফ থেকে আপনাদের কাছে একটি ছোট আবেদন, আমাদের অনশনকারীদের সংহতিতে, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে, আপনারা যদি একাদশীর দিন একবেলা বাড়িতে বাড়িতে অরন্ধন পালন করেন।"
রবিবার সকাল থেকে সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ধর্না মঞ্চে ভিড় বাড়ছে সাধারণ মানুষের। আর্থিক সাহায্যের আহ্বানও জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। ইতিমধ্যে অনেকে এগিয়ে এসে আর্থিক সাহায্যও করছেন।