
শেষ আপডেট: 14 October 2023 12:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: মাত্র কয়েকদিন আগেই গৃহস্থের বাড়ির সামনে হাজির হয়েছিল সে। এপাড়া ওপাড়ায় দিব্যি দিয়ে হেঁটে চলে বেড়াচ্ছিল। দেখে রীতিমতো পিলে চমকে গিয়েছিল সকলের। কালনায় সেই কুমির আতঙ্ক এখনও তরতাজা। পাড়ায় কুমির ঢুকে পড়ার ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু তর্পণ করতে গেলে যে স্থানীয়দের ভাগীরথীতে নামতেই হবে৷ তাই কুমির আতঙ্ক কাটানোর জন্য নদীতে বোমা ফাটালেন বন কর্মীরা। সমস্ত ঘাটে বোমা ফাটানোর সঙ্গে মাইকে প্রচার চালানো হয়।
লোকালয়ে কীভাবে কুমির ঢুকল? কালনায় কুমির দেখতে পাওয়ার পরই এই প্রশ্ন এসেছিল সকলের মনে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন, ভাগীরথী নদী থেকেই কুমিরটি ডাঙায় উঠে আসতে পারে। সেই ভাগীরথীর ধারে আজ আবার মহালয়ার দিনে তর্পণ করতে জড়ো হন শয়ে শয়ে মানুষ। তাই সকালে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয় প্রশাসনকে৷ রীতিমতো বোমা ফাটিয়ে চলল কুমির তাড়ানোর চেষ্টা৷ লঞ্চে করেও টহল দেয় পুলিশ এবং বনকর্মীরা।
কালনার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ায় লোকালয়ের মধ্যেই চলতি মাসের ১০ তারিখে একটি কুমির ঢুকে পড়েছিল। গভীর রাতে ওই এলাকায় কুকুর প্রচণ্ড ডাকতে শুরু করেছিল। পরে এলাকাবাসীরা বেরিয়ে দেখেছিলেন, পাড়ার মধ্যে বড়সড় কুমির দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে! সেই আতঙ্কের মধ্যেই কুমিরকে ঘাটের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে গত দু দিন ধরেই জল-বোমা ফাটানো হচ্ছিল৷ এদিন সকালেও একইভাবে ফের বোমা ফাটিয়ে কুমির তাড়ানোর চেষ্টা হয়৷ লঞ্চে করেও চলে টানা নজরদারি৷
প্রসঙ্গত, যে ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়েছিল তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। দেখা গিয়েছে, বিশালাকার একটি কুমির বাড়ির দরজার বাইরে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তারপর সেই বাড়িরই পাশের বাগান দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে গেটের দিকে। এরপরই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়। আসলে ওই এলাকার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ভাগীরথী। সেখান থেকে কুমির লোকালয়ে চলে আসতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান ছিল বনর্মীদের। তাই নদীবক্ষে তর্পণের সময়ে যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর অবস্থা তৈরি না হয় সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।