দ্য ওয়াল ব্যুরো : একজনকে প্রার্থী করলে অন্য জনের রাগ হতে পারে, যিনি টিকিট পেলেন না (Who have not got nomination) তিনি গোঁজ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়তে পারেন—এই আশঙ্কা শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে ছিলই। কিন্তু সেই আশঙ্কা এমন এমন জায়গায় সত্যি হল যাতে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে প্রবল অস্বস্তিতে পড়তে হবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
কেন? কোথায় কোথায় কাঁটা বিঁধেছে তৃণমূলের?
দেখা যাচ্ছে, ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির ভাই সন্দীপ বক্সির বিরুদ্ধে নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১০-১৫ পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। গত ভোটে সন্দীপ প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু এবার ফের ‘গণচাপে’ নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়েছেন সচ্চিদানন্দ।
এরপর গোলযোগ বেঁধেছে দিদির পাড়ায়। সেখানকার দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত রতন মালাকারকে দল এবার টিকিট দেয়নি। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী এবার মমতার ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রতনও এদিন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়। রতন বলেছেন, তাঁর উপর চাপ তৈরি হচ্ছে। হরিশ মুখার্জি রোডে যে পার্টি অফিস থেকে তিনি তাঁর ওয়ার্ড এলাকার কাজ পরিচালনা করতেন তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। রতনের আরও বক্তব্য, এলাকার মানুষের দাবি মেনেই আমি মনোনয়ন জমা দিয়েছি। এর বেশি কিছু বলব না। শেষ পর্যন্ত যদি রতন মনোনয়ন না তোলেন তাহলে দিদির পাড়াতেই তৃণমূল বনাম বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের লড়াই হতে চলেছে।
অন্যদিকে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে গত সুপ্তাহ থেকে নাটক চলছে। তৃণমূল যে তালিকা ঘোষণা করেছিল তাতে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বোন তনিমা চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল। কিন্তু গত রবিবার একটি কাণ্ড ঘটে যায়। দক্ষিণ কলকাতার প্রার্থীদের ‘সিম্বল’ বিলি হচ্ছিল দেবাশিস কুমারের অফিস থেকে। সেখানে তনিমাও তা আনতে গিয়েছিলেন। তাঁর হাতে কাগজ দেওয়ার পর তনিমা যখন সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছেন তখন তাঁর হাত থেকে সেই কাগজ নিয়ে নেওয়া হয়। অগত্যা খালি হাতেই তাঁকে ফিরতে হয়।
এরপরই জানা যায়, ওই ওয়ার্ডেই প্রার্থী হওয়ার জন্য বায়না ধরেছেন ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়। শুধু বায়না নয়। একেবারে নাছোড়বান্দা। আমাকেই টিকিট দিতে হবে, নইলে খেলব না গোছের বায়না ধরে তিনি নাকি পার্টি অফিসে রাতভর হত্যে দিয়ে বসে ছিলেন।
তৃণমূলের একটি বড় অংশ চাইছিলেন না সুদর্শনা প্রার্থী হোন। আবার তনিমাকে দিলেও সুদর্শনার গোষ্ঠী অন্তর্ঘাত করতে পারে বলে আশঙ্কা। এই টানাপড়েনের মধ্যে শেষমেশ তৃণমূল সুদর্শনাকেই প্রার্থী ঘোষণা করে। তারপর দেখা যায় নির্দল হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন তনিমাও। যা নিয়ে তীব্র অস্বস্তিতে তৃণমূল।