দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার মুম্বই থেকে লন্ডন যাওয়ার প্লেনে উঠতে যাচ্ছিলেন ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর রানা কাপুরের মেয়ে রোশনী কাপুর। পুলিশ তাঁকে বিমানে উঠতে দেয়নি। সোমবার রোশনী ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনল সিবিআই।
গত বৃহস্পতিবার ইয়েস ব্যাঙ্কের সংকটের কথা প্রকাশ্যে আসে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নির্দেশ দেয়, ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে কেউ ৫০ হাজার টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। টাকা তছরুপের দায়ে গ্রেফতার হন রানা কাপুর। আগামী বুধবার অবধি তিনি থাকবেন এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেটের হেফাজতে।
ইডির কৌঁসুলি আদালতে অভিযোগ করেন, রানা কাপুর তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না। অন্যদিকে ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, তিনি দিবারাত্র সহযোগিতা করেছেন। যদিও তাঁকে ওই সময়ের মধ্যে একটুও ঘুমোতে দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ইডি তাঁকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে।
৬২ বছরের রানা কাপুরকে রবিবার আদালতে হাজির করানো হলে তিনি ভেঙে পড়েন। ইডির আইনজীবী সুনীল গনজালভেস বলেন, ইয়েস ব্যাঙ্কে মোট ৪৩০০ কোটি টাকার কেলেংকারি হয়েছে। এব্যাপারে রানা কাপুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সহযোগিতা করেননি। তখনই ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, আমি তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাঁরা আমাকে এক মুহূর্ত ঘুমোতে দেননি।
রানা কাপুরের আইনজীবী জৈন শ্রফ বলেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সম্প্রতি ইয়েস ব্যাঙ্কের ওপরে মোরাটোরিয়াম জারি করায় অনেকে অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাঁদের শান্ত করার জন্য তাঁর মক্কেলকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।
ইডি সূত্রের খবর, ইয়েস ব্যাঙ্ক ভরাডুবি কাণ্ডের অঙ্ক খুব সরল নয়। তাই এই নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পরেই আগে থেকে সতর্ক ছিলেন ইডির তদন্তকারীরা। তাঁদের আন্দাজ ছিল, পরিস্থিতি খারাপ বুঝলে যে কোনও সময়ে দেশ ছাড়তে পারেন রানা কাপুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাই তদন্তে নেমে, জেরার মুখে রানা কাপুরের দুর্নীতির ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পরেই রানা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম লুকআউট নোটিস জারি করা হয়।