লালঝাণ্ডার দখলে কাশ্মীরের একটা জেলা পরিষদ, নেতৃত্বে তারিগামী, ভাবা যায়!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিপিএম ঘনিষ্ঠ প্রয়াত কবি জয়দেব বসু লিখেছিলেন, 'এই মৃত্যু উপত্যকাই আমার দেশ, এখানেই আমি ফুল ফোটাব।'
জয়দেব বসুর কবিতার উর্দু অনুবাদ কাশ্মীরের সিপিএম নেতারা পড়েছেন কিনা জানা নেই, তবে কুলগাম জেলায় উন্নয়ন পর্ষদ ভোটে দুরন্ত ফল
শেষ আপডেট: 6 February 2021 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিপিএম ঘনিষ্ঠ প্রয়াত কবি জয়দেব বসু লিখেছিলেন, 'এই মৃত্যু উপত্যকাই আমার দেশ, এখানেই আমি ফুল ফোটাব।'
জয়দেব বসুর কবিতার উর্দু অনুবাদ কাশ্মীরের সিপিএম নেতারা পড়েছেন কিনা জানা নেই, তবে কুলগাম জেলায় উন্নয়ন পর্ষদ ভোটে দুরন্ত ফলাফলের পর সেখানকার জেলা উন্নয়নের পর্ষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন এক সিপিএম নেতা।
ভাবা যায়?
কুলগাম বিধানসভার চার বারের বিধায়ক ইউসুফ তারিগামী। সিপিএমের অন্দরে অনেকে তাঁকে বলেন উপত্যকার ফিদেল কাস্ত্রো। সেই তিনি এদিন 'দ্য ওয়াল'-কে বলেন, "রাষ্ট্রীয় রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে, বল্গাহীন বেড়াজালের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছিলাম। আজ তার একটা ধাপ সম্পন্ন হল। কিন্তু আমরা উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে চাই না। আমরা চাই আমাদের লড়াই আরও ব্যাপ্তি লাভ করুক।"
এই তারিগামী দীর্ঘদিন গৃহবন্দি ছিলেন কাশ্মীরে। সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। শুধু যানইনি, তারিগামীকে তুলে নিয়ে দিল্লিতেও চলে এসেছিলেন। তার পরে অসুস্থ তারিগামীর চিকিতসা হয়েছিল রাজধানীতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গিয়েছিল, তারিগামী বলছেন, "কাশ্মীরে বুটের শব্দে সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘিত। তার পুরোটাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে নর্থ ব্লকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে।"
কুলগাম জেলা পরিষদের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়েছেন মহম্মদ আফজল। ভাইস চেয়ারম্যানরা নির্বাচিত হয়েছেন ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লার দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেত্রী শাজিয়া জান।

উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা তথা বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহারের পর জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষিত হয়। তারপর কয়েকমাস আগে সেখানে জেলা উন্নয়ন পর্ষদ ভোট হয়। সেই ভোটেই দেখা যায় কুলগামে পতপত করে উড়ছে লাল পতাকা।
শনিবার ছিল কুলগামের জেলা উন্নয়ন পর্ষদের বোর্ড গঠন। সেখানে সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে চেয়ারপার্সন হবেন সিপিএমের মহম্মদ আফজল।
এ প্রসঙ্গে সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য নীলোত্পল বসু বলন, "কাশ্মীরে যে কায়দায় রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন নামিয়ে আনা হয়েছে এবং যে ফ্যাসিবাদী ভঙ্গিতে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে তা সাংবিধানিক ভাবে করা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের অসংখ্য মামলা রয়েছে। কিন্তু বাস্তব হল এই দানবীয় প্রবণতার বিরুদ্ধে উপত্যকার মানুষ ফুঁসছেন। আমরা, আমাদের পার্টি ওখানে লড়াইয়ের মধ্যে ছিলাম।তারই ফল কুলগামের এই জয়।"
প্রাক্তন রাজ্য সভার সাংসদ আরও বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার এমন একটা ভাব করছে যেন এর আগে কাশ্মীর ভারতে ছিল না। এই প্রবণতার বিরুদ্ধে আগামী দিনেও লড়াই চলবে।"
অনেকের মতে পশ্চিমবঙ্গের মতো একদা বাম দুর্গে যখন সংসদীয় রাজনীতি তথা ভোটবাক্সে কার্যত বিলীন হচ্ছে বামেরা তখন কাশ্মীরে সিপিএমের এই সাফল্য বাংলার বামেদের কাছেও অক্সিজেন যোগাবে।