
শেষ আপডেট: 3 October 2022 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তমীর সন্ধেয় দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী মোড়ের কাছে সিপিএমের (CPIM) বইয়ের স্টলে (book stall) হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আজ অষ্টমীর বিকেলে তার প্রতিবাদে ওই জায়গাতেই সভা ডেকেছিল সিপিএম। অভিযোগ, সেই সভা করার সময়ই তৃণমূলের সঙ্গে বচসা বাধে। তারপরই পুলিশ গ্রেফতার করে সিপিএম কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার, পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়-সহ আরও অনেককে। তাঁদের লালবাজার নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই সন্ধের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। উল্লেখ্য, ভেঙে দেওয়া সেই স্টল অষ্টমী থেকে আবার চালু হয়েছে।

দুর্গাপুজোর সময় মণ্ডপের কাছাকাছি কিংবা শহরের বড় বড় রাস্তার মোড়ে সিপিএমের বইয়ের স্টল অতিপরিচিত দৃশ্য। গতকাল রাসবিহারীর কাছে তেমনই একটি স্টলে ঝোলানো ছিল একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল, 'চোর ধরো জেল ভরো'। সিপিএমের অভিযোগ, এরপরই তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক এসে স্টলে ভাঙচুর চালায়। বই নষ্ট করে দেয়।
সিপিএমের এক নেতা বলেন, "ওরা প্রথমেই এসে সেই ব্যানার খুলতে বলে। কিন্তু আমরা খুলিনি। আমরা চোর ধরার কথা বলেছিলাম, সেটা ওদের গায়ে লাগছে কেন? তাহলে কি তৃণমূল দলটা সত্যিই নিজেদের চোর বলে করে? ব্যাপারটা এমন হল, 'রটলো কথা হাটের মাঝে, যার কথা তার গায়ে বাজে'। ব্যানারে লেখা ওই স্লোগানটাও স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের গায়ে লেগেছে।"

কলকাতা জেলা সিপিএমের যুব নেতা সৈনিক শূর বলেন, 'যে তৃণমূলের পুলিশ গান্ধীকে অসুর সাজাতে হিন্দু মহাসভাকে পুজোর অনুমতি দেয়, তারাই বুক স্টল করলে আমাদের কর্মীদের গ্রেফতার করে। আর তৃণমূলের লোক এসে সেই স্টল ভেঙে দিয়ে যায়। সাদা-কালোয় ছবিটা স্পষ্ট।'
এদিকে, অষ্টমীর বিকেলে এই ঘটনার প্রতিবাদে সভা ডাকে সিপিএম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কল্লোল মজুমদার, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়রা। এদিন সভা শুরুর আগেই পুলিশ এসে সভা মুলতুবির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের। শেষ অবধি পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এঁদের মধ্যে রয়েছেন কল্লোল মজুমদার, গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়, রাজেন্দ্র প্রসাদ, আইনজীবী রানা গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেতা-পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ও।