দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েক বছরে গোরক্ষকদের হাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু কর্নাটকের উপ মুখ্যমন্ত্রী সি এন অশ্বথ নারায়ণ দাবি করলেন, একসময় গোরক্ষকদের জীবন বিপন্ন হত। কারণ গরু পাচারকারীরা ছিল সশস্ত্র। গত বুধবার গোরক্ষার জন্য কঠোর আইন পাশ করিয়েছে কর্নাটক সরকার। তার নাম প্রিভেনশন অব স্লটার অ্যান্ড প্রিভেনশন অব ক্যাটল বিল। এমনিতে গত শতকের ছ'য়ের দশক থেকেই ওই রাজ্যে গোহত্যা নিষিদ্ধ। নতুন আইনে গোহত্যাকারীদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই আইনের ১৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যাঁরা সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করবেন তাদের সরকার রক্ষা করবে। 'সদিচ্ছা নিয়ে যাঁরা কাজ করবেন' বলে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে বিলে স্পষ্ট করে লেখা নেই। কিন্তু উপমুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই ধারায় গোরক্ষকদের রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। তাঁর কথায়, "গোরক্ষক বলতে তাঁদের কথা বোঝানো হয়েছে, যাঁরা আইনের পক্ষে কাজ করবেন।"
২০১৫ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গোরক্ষার নামে ১১৫ টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। তাতে নিহত হয়েছেন ৪৬ জন। আহত হয়েছেন ১৪৬ জন। যদিও গোরক্ষকদের কেউ হতাহত হননি। কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেন, তাঁদের রাজ্যে কেবল গোরক্ষকদেরই মৃত্যু হয়েছে। যারা গরু পাচার করে তারা তাদের খুন করেছে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গোরক্ষকরা গোমাতাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায়, "গরু পাচারকারীদের কাছে অস্ত্র থাকে। তারা মানুষকে খুন করছে। গোরক্ষকরা কাউকে খুন করেনি।"
নারায়ণ বলেন, রাজ্যে কৃষি ও পশুপালনের উন্নতির স্বার্থে গোরক্ষা আইন আনা জরুরি ছিল। ভারতীয় সংস্কৃতিতে গরুর গুরুত্ব আছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়, "ভারতীয় সংস্কৃতিকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। সেজন্যই আমরা আইন করেছি।"
নতুন আইনে গৃহপালিত জন্তুর মধ্যে রাখা হয়েছে গরু, বাছুর, ষাঁড়, বলদ ও মহিষদের। এই তালিকায় থাকা যে কোনও প্রাণীর মাংসকে ‘বিফ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এইসব প্রাণী হত্যা করলে প্রথমবার তিন থেকে সাত বছরের জেল ও ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। পরে ফের আবার একই ধরনের অপরাধ করলে সাত বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। কর্নাটক থেকে অন্য রাজ্যে এই প্রাণীদের বিক্রির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অবশ্য এই আইন নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বেঙ্গালুরুর এক রেস্তোরাঁর মালিকের বক্তব্য, “মুসলিমরা মদ খায় না। কিন্তু তারা কোনও সরকারকে অনুরোধ করেনি তাদের ধর্মের পরিপন্থী হওয়ায় মদ নিষিদ্ধ করতে। আমরা কখনও কোনও খ্রিস্টানকে শুয়োরের মাংস খেতে অনুরোধ করি না।”
ওই রেস্তোরাঁর মালিক আরও প্রশ্ন করেন, “যেসব গৃহপালিত পশুরা দুধ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে তাদের কী হবে। যেসব কৃষকের মহিষ রয়েছে তারা বাজারে বিক্রি করতে পারবে না। তাদের কী হবে?”
কর্নাটকের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী কে এস ইশ্বরাপ্পা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “আগে যে বিজেপি সরকার ছিল তা গো-হত্যা বন্ধ করেছিল। কিন্তু কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় এসে সেই নির্দেশ বদলে দেয়। আমরা আবার তা করেছি। এটা আমাদের জীবনে আশীর্বাদ। যারা গরু ভালবাসে তাদের সব স্বপ্ন সত্যি হবে।”