দ্য ওয়াল ব্যুরো : বর্তমানে ভারতে ৮৪ দিন অন্তর কোভিশিল্ডের দু'টি ডোজ দেওয়া হয়। প্রথম ডোজের সঙ্গে দ্বিতীয় ডোজের সময়ের পার্থক্য ঠিক আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। একটি সূত্রে খবর, দু'টি ডোজের মধ্যে সময়ের পার্থক্য কমানো হতে পারে। বৃহস্পতিবার সরকারি সূত্রে বলা হয়, "কোভিশিল্ডের দু'টি ডোজের মধ্যে সময়ের পার্থক্য কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে। ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসারি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশনে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।"
গত জানুয়ারিতে দেশে টিকাররণ শুরু হওয়ার সময় সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি ওই ভ্যাকসিনের দু'টি ডোজের মধ্যেকার সময়ের পার্থক্য স্থির করা হয়েছিল চার থেকে ছয় সপ্তাহ। পরে সময়ের পার্থক্য বাড়িয়ে করা হয় ছয় থেকে আট সপ্তাহ। গত মে মাসে কোভিশিল্ডের দু'টি ডোজের সময়ের পার্থক্য বাড়িয়ে করা হয় ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ। যদিও অপর প্রতিষেধক কোভ্যাকসিনের দু'টি ডোজের মধ্যেকার সময়ের পার্থক্য একই রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় সরকার জানায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৪৬ হাজার ১৬৪ জন। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতে ৩ কোটি ২৫ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫৩০ জন ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৩৬৫ জন। দেশে এখন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭২৫।
কেরলে সম্প্রতি ওনাম উৎসব হয়েছে। তার পরেই দক্ষিণের ওই রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। বুধবার ওই রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত হন ৩১ হাজার ৪৪৫ জন। সেখানে টেস্ট পজিটিভিটি রেট এখন ১৯ শতাংশ। গত ২০ মে-র পরে এই প্রথমবার কেরলে একদিনে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হলেন।
কেরলের সাত জেলা, এর্নাকুলাম, ত্রিচুর, কোঝিকোড়, মালাপ্পুরম, পালাক্কাড়, কোল্লাম ও কোট্টায়ামে দৈনিক য় ২ হাজারের বেশি মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর্নাকুলমে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার জন। ত্রিচুর, কোঝিকোড় এবং মালাপ্পুরমে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ বলেন, আমাদের এখনও সতর্ক থাকতে হবে। এখনও কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ দূর হয়নি। আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওইসময় কয়েকটি উৎসব হবে। পরে রাজেশ ভূষণ বলেন, ভ্যাকসিন নিলে কেউ কোভিডে গুরুতর অসুস্থ হবেন না। কিন্তু ভ্যাকসিন পুরোপুরি ওই রোগকে প্রতিরোধ করতে পারে না। তাই এখনও মাস্ক পরতে হবে।
সম্প্রতি প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, আমাদের নিজেদেরই কোভিড থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ সরকার এখন সবকিছু বিক্রি করতে ব্যস্ত। এক্ষেত্রে তিনি পরোক্ষে সরকারের অ্যাসেট মনিটাজেশন পাইপলাইন প্ল্যানের কথা উল্লেখ করেছেন। টুইটারে রাহুল লেখেন, "দেশে কোভিডের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা উদ্বেগজনক। আরও দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে হবে। না হলে অতিমহামারীর আরও একটি ওয়েভকে ঠেকানো যাবে না।"