দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী ৩১ অগাস্ট চলতি ত্রৈমাসিকের জিডিপি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করবে সরকার। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, গত ত্রৈমাসিকের তুলনায় চলতি ত্রৈমাসিকে জিডিপি সামান্য বাড়বে। একইসঙ্গে তাঁরা বলেছেন, এমনিতেই ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদন নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করা খুব কঠিন। তার ওপরে করোনা সংকটের মধ্যে জিডিপি নিয়ে আগাম কিছু বলা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া ভবিষ্যৎবাণী করার মতো যথেষ্ট তথ্যও হাতের কাছে নেই। কারণ মার্চের শেষে লকডাউন জারি হওয়ার পরে স্ট্যাটিসটিকস অফিস ফিল্ড সার্ভে বন্ধ করে দিয়েছে।
কিছুদিন আগে অর্থনীতিবিদরা বলেছিলেন, জুন থেকে শুরু হওয়া ত্রৈমাসিকে জিডিপি সংকুচিত হবে ১৫ শতাংশ। ১৯৯৬ সাল থেকে ত্রৈমাসিক জিডিপি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ শুরু হয়। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতিবিদ সুমেধা দাশগুপ্ত বলেন, "লকডাউনের ফলে অর্থনীতি কতদূর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এখনই বলা মুশকিল। এই পরিস্থিতিতে জিডিপি-র অবস্থা কী দাঁড়াবে আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।"
ফিল্ড সার্ভে বন্ধ হওয়ার ফলে অর্থনীতির নানা সেক্টরে কী হারে উৎপাদন হয়েছে জানা যাচ্ছে না। সেই তথ্যগুলি ছাড়াই জিডিপি সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। কয়েকমাস পরে সেই তথ্যগুলি জানা গেলে জিডিপি-র বিকাশ অথবা সংকোচনের হারও বদলে যাবে।
করোনা অতিমহামারীর আগেও ভারতের জিডিপি নিয়ের আগাম কিছু বলা হয়ে উঠছিল কঠিনতর। ২০১৫ সাল থেকে জিডিপি পরিমাপের নতুন পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। এর পর থেকে অর্থনীতিবিদরা নিজস্ব পদ্ধতিতে জিডিপি-র পরিমাপ করেন।
স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার অর্থনীতিবিদ সৌম্যকান্তি ঘোষ ইতিমধ্যে বলেছেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে জিডিপি কমবে ১৬.৫ শতাংশ। এর আগে ভাবা হয়েছিল, জিডিপি ২০ শতাংশ কমবে।
২০২১ সালে ভারতের অর্থনীতি ছয় শতাংশ হারে বিকশিত হবে বলে আইএমএফ মনে করে। ২০১৯ সালে ভারতের অর্থনীতি বিকশিত হয়েছিল ৪.২ শতাংশ হারে। গত এপ্রিলে আইএমএফ বলেছিল, ২০২১ সালে ভারতের অর্থনীতি বিকশিত হবে ৭.৪ শতাংশ হারে। এদিন তার থেকে ১.৪ শতাংশ কমিয়ে দেখানো হয়েছে।
চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতি বিকশিত হবে ৪.৫ শতাংশ হারে। গত এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরকাস্টে বলা হয়েছিল, বিশ্ব অর্থনীতির বিকাশ হবে ৬.৮ শতাংশ। কিন্তু বুধবার তা ১.৯ শতাংশ কমিয়ে দেখানো হয়েছে।
এদিন আইএমএফের চিফ ইকনমিস্ট গীতা গোপীনাথ বলেন, “এখন বিশ্ব জুড়ে যে সংকট চলছে, তা অভুতপূর্ব। আমাদের মতে চলতি বছরে ভারতের অর্থনীতি সংকুচিত হবে ৪.৫ শতাংশ হারে।”
আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২০ সালের প্রথমার্ধে অর্থনীতির ওপরে কোভিড ১৯ মহামারীর যে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। যত তাড়াতাড়ি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছিল, বাস্তবে তা সম্ভব হবে না। চিনে এখন অতিমহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি। আশা করা হচ্ছে সেদেশে চলতি বছরে অর্থনীতির বিকাশ হবে এক শতাংশ হারে। তবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য চিনকে কয়েকটি ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই ওই বিকাশ সম্ভব হবে।