দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মার্চ থেকেই শিশুদের (Children) মধ্যে কোভিড সংক্রমণ বাড়ছে। দেশে যত অ্যাকটিভ রোগী আছে, তাদের মধ্যে একটি অংশের বয়স ১০ বছরের কম। কোভিড মোকাবিলায় নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করার জন্য যে এমপাওয়ার্ড গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, তারা জানিয়েছে একথা।
এমপাওয়ার্ড গ্রুপ নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে বলেছে, মার্চে দেশে মোট অ্যাকটিভ কেসের মধ্যে ২.৮০ শতাংশ ছিল শিশু। অগাস্টে তাদের সংখ্যা বেড়ে হয় ৭.০৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন অ্যাকটিভ কোভিড রোগীর মধ্যে সাত জন শিশু। সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ও অন্যান্য মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের সামনে এই তথ্য পেশ করেন নীতি আয়োগের চেয়ারম্যান ভি কে পাল। তিনি জানান, ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অ্যাকটিভ রোগীদের মধ্যে এক থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তা ২.৭২ শতাংশ থেকে হয় ৩.৫৯ শতাংশ।
মোট ১৮ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত অগাস্টে মিজোরামে কোভিড আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। সেখানে অ্যাকটিভ রোগীদের ১৬.৪৮ শতাংশ ছিল শিশু। দিল্লিতে শিশুদের সংক্রমণ ছিল সবচেয়ে কম (২.২৫ শতাংশ)। ওই সময় মেঘালয়ে ৯.৩৫ শতাংশ, মণিপুর ৮.৭৪ শতাংশ, কেরলে ৮.৬২ শতাংশ, আন্দামান ঐ নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ৮.২ শতাংশ, সিকিমে ৮.০২ শতাংশ, দাদরা ও নগর হাভেলিতে ৭.৬৯ শতাংশ এবং অরুণাচল প্রদেশে ৭.৩৮ শতাংশ শিশু কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিল।
এমপাওয়ার্ড গ্রুপের দেওয়া তথ্য দেখে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, দেশে কোভিডের থার্ড ওয়েভ অবশ্যম্ভাবী। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তখন শিশুরা বড় সংখ্যায় সংক্রমিত হতে পারে। একটি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আগের চেয়ে বেশি সংখ্যায় শিশু কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তার একটা কারণ হতে পারে এই যে, কোভিড নিয়ে এখন সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে শিশুদের মধ্যে যে সংক্রমণ বাড়ছে, একথাও অস্বীকার করা যায় না।
অপর একটি সূত্র থেকে বলা হয়েছে, সেরো সার্ভের ফলাফলের দিকে নজর রাখলে দেখা যায়, শিশুদের মধ্যে কোভিড পজিটিভিটির হার ৫৭-৫৮ শতাংশ। শিশুরাও অতিমহামারীতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে এখন আগের চেয়ে বেশি কোভিড প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সেজন্যই হয়তো শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।