দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড চিকিৎসার খরচ যাতে গরিব ও মধ্যবিত্তের হাতের বাইরে না চলে যায়, সেজন্য বেশিরভাগ রাজ্য ব্যবস্থা নিয়েছে। কোভিড চিকিৎসার সর্বাধিক খরচ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তথ্য বলছে, যতই খরচ বেঁধে দেওয়া হোক, অন্তত ৮০ শতাংশ পরিবারে একজনের কোভিড হলেই গুরুতর আর্থিক সংকট দেখা দেয়। কোভিড রোগীকে ১০ দিন আইসোলেশনে রাখতে যে খরচ হয়, তা পরিবারের মাসিক উপার্জনের চেয়ে অনেক বেশি।
কিছুদিন আগে ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকাল অফিস ২০১৭-১৮ সালে ভারতীয়দের গড় মাসিক খরচ সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, দিল্লিতে মাসিক খরচ সবচেয়ে বেশি। সেখানে পাঁচজনের পরিবারে মাসে মাথাপিছু পাঁচ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। রাজধানীতে নন অ্যাক্রিডিয়েটেড হাসপাতালে ১০ দিনের ন্যূনতম আইসোলেশন চার্জ ৮০ হাজার টাকা। অর্থাৎ রাজধানীর ৮০ শতাংশ পরিবার মাসে মাথাপিছু যত খরচ করে, কোভিড রোগীকে ১০ দিন আইসোলেশনে রাখতে খরচ হয় তার তিন গুণের বেশি। কোনও কোভিড রোগীর অবস্থা যদি গুরুতর হয়, তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়, তাহলে খরচ হয় দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা।
সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্র ২০ টি রাজ্যে ১০ দিন আইসোলেশনের বেডের খরচ, আইসিইউতে বেডের খরচ এবং আইসিইউতে ভেন্টিলেটর সহ বেডের খরচ হিসাব করে। সেই সঙ্গে রাজ্যে মাথা পিছু গড় খরচের হিসাব করা হয়। তাতে দেখা যায়, কোভিড চিকিৎসার খরচ যতই বেঁধে দেওয়া হোক, ৮০ শতাংশ পরিবারের পক্ষে তা বহন করা মুশকিল।
প্রতিটি রাজ্যেই সরকারি হাসপাতালে কোভিডের চিকিৎসা হয় বিনামূল্য। কিন্তু অতিমহামারী শুরু হওয়ার আগেও রাজ্যে মোট রোগীর ৪২ শতাংশের চিকিৎসা হত হাসপাতালে। করোনা সংকটের সময় সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থা নিয়ে নানা সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তার ওপরে দেখা যাচ্ছে, বড় রাজনীতিক এবং আমলারা নিজেদের করোনা হলে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছেন। ফলে সাধারণ পরিবারেও কোভিড রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর প্রবণতা বাড়ছে।
গুজরাত, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের মতো রাজ্যে সরকার যদি কোনও রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করে অথবা কোনও রোগী সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের অঙ্গীভূত হন, তাহলে তাঁদের থেকে নির্দিষ্ট রেট নেওয়া হয়। কিন্তু একমাত্র প্রভাবশালী লোকজনকেই সরকার বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করে। বাকিরা সেই সুযোগ পান না।