দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরোপুরি ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন নয়াবাদের করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধ। পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি তিনি। সূত্রের খবর, কয়েক দিন ধরেই ওই বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। আজ সঙ্কট বেড়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোভিড ১৯ আক্রান্ত ওই বৃদ্ধকে অনেকটা বেশি অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। ইউরিন আউটপুটও অনেকটা কমেছে। বুকের এক্স-রেতে সংক্রমণের মাত্রা অনেকটাই ধরা পড়েছে। আগামীকাল, বুধবার মেডিক্যাল বোর্ড বসবে তাঁর জন্য। ডায়ালিসিস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এক আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে গত ১২ মার্চ পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা গিয়েছিলেন ৬৬ বছরের ওই প্রৌঢ়। সেখানে ১৪ মার্চ বউভাতের দিন তাঁর সামান্য জ্বর হয় বলে জানিয়েছিলেন ওই ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এক চিকিৎসক। কিন্তু প্যারাসিটামল খেয়ে জ্বর কমায় ১৬ তারিখ দিঘায় যান তিনি। সেখানে ফের জ্বর বেড়ে যাওয়ায় দু’দিন পর ফিরে যান এগরাতে। সেখানে রক্ত পরীক্ষা করা হলে তাঁর টাইফয়েড ধরা পড়েছিল বলে জানা গেছে। তারপরেই চিকিৎসার জন্য কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয় তাঁকে।
২৩ তারিখ পিয়ারলেস হাসপাতালে দেখাতে গেলে উপসর্গ দেখে তাঁকে আইসোলেশনে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করেন ডাক্তাররা। লালারস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল নাইসেডে। ২৫ তারিখ নাইসেড থেকে আসা রিপোর্টে তাঁর শরীরে করোনা সংক্রমণের কথা জানা যায়। তিনিই বাংলার দশম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অবস্থার অবনতি হওয়ার পর থেকেই তাঁকে হাইড্রক্সি-ক্লোরোকুইন দিতে শুরু করেন চিকিৎসকরা। দেওয়া হয় এইচআইভির ওষুধও। কিন্তু তাতেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। দিন চারেক আগে, শুক্রবার বিকেলের পরে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার খবর আসে। ফুসফুসের কাজ কমে যায়, বিকল হয়ে যায় কিডনিও। একাধিক অঙ্গ বিকল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন চিকিৎসকরা। সেই আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে কঠিন হল সঙ্কট।
ওই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পরেই বিয়েবাড়ির সমস্ত নিমন্ত্রিতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ডাকে এগরার মহকুমা প্রশাসন। তাঁদের মধ্যে দু'জন আক্রান্ত বলেও ধরা পড়েছেন।
এর আগে দমদমের করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথম মৃত্যু হয় কলকাতায়। তার পরে মারা যান কালিম্পংয়ের এক মহিলা। আজ, মঙ্গলবার সকালেই হাওড়া থেকে আরও একটি মৃত্যুর খবর এসেছে। বাংলায় এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে এই তিন জনেরই মৃত্যু হয়েছে। নয়াবাদের আক্রান্ত বৃদ্ধের অবস্থা অতি সঙ্কটজনক হওয়ার পর উদ্বেগ তাই আরও বেড়ে গেছে।
ওই বৃদ্ধের পরিবারের আরও চার জন ব্যক্তিকে বেলেঘাটা আইডিকে ভর্তি করে আইসোলেশনে রেখে, লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল নাইসেডে। তাঁরা কেউ আক্রান্ত নন অবশ্য।