দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাহিন্দ্রা গ্রুপের মতো করোনা লড়াইয়ে সামিল মারুতি সুজুকিও। এপ্রিলের শুরু থেকেই ভেন্টিলেটর বানানো শুরু করেছে এই অটোমোবাইল জায়ান্ট। গত ২০ দিনে ১৫০০ ভেন্টিলেটর বানিয়ে ফেলেছে এই সংস্থা। এখন প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি করে ভেন্টিলেটর তৈরি হচ্ছে উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরে মারুতি সুজুকির ইউনিটে। আগভা হেলথকেয়ারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ভেন্টিলেটর তৈরি হচ্ছে।
সংস্থার চেয়ারম্যান আর সি ভার্গব বলেছেন, “দেশের আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলিতে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের ঘাটতি রয়েছে। আমাদের সংস্থাকে ভেন্টিলেটর বানাতে বলা হয়েছিল। গত তিন সপ্তাহে ১৫০০-র বেশি ভেন্টিলেটর তৈরি হয়ে গেছে। কেন্দ্রের অনুমোদন পেলেই সেগুলি হাসপাতাল-নার্সিংহোম ও হেলথ কেয়ার সেন্টারগুলিতে পৌঁছে যাবে।” ভার্গব জানিয়েছেন, খুব কম খরচে এই ভেন্টিলেটর বানানো হয়েছে। গত দু’সপ্তাহ ধরে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে এই ভেন্টিলেটরের ট্রায়ালও হয়েছে। হাসপাতালের তরফে এই ভেন্টিলেটরকে সবুজ সঙ্কেতও দেওয়া হয়েছে। অথচ কেন্দ্রের তরফে এখনও এই ভেন্টিলেটর কেনার ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ভার্গব বলেছেন, অন্যান্য মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের তুলনায় অনেক বেশি পোর্টেবল এই ভেন্টিলেটর। এর চাপ নিয়ন্ত্রিত হবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই। রোগীর শরীরে কতটা অক্সিজেন ঢুকবে সেই হিসেবও মাপা আছে। যে কোনও আইসোলেশন ওয়ার্ড, কোভিড হাসপাতাল, হেলথ সেন্টারে সহজেই ব্যবহার করা যাবে এই ভেন্টিলেটর।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে আরও ১০ হাজার ভেন্টিলেটর তৈরি রাখা হচ্ছে। তারজন্য সংস্থার কর্মীরা দিনে ৩০০টি করে বা তারও বেশি ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ বানানোর চেষ্টা করছেন। ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে ওয়ার্কশপে।

সংস্থার চেয়ারম্যান ভার্গবের কথায়, “এইচএলএল লাইফকেয়ার এই ভেন্টিলেটরের পরীক্ষা করে গেছে। তাদের অনুমোদন এলেই ডেলিভারি শুরু হয়ে যাবে। প্রয়োজন মতো অর্ডার এলে বাণিজ্যিক হারে ভেন্টিলেটরের উৎপাদন শুরু হবে।”
করোনা রোগীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভেন্টিলেটরের চাহিদাও বেড়েছে। শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা সবচেয়ে আগে দরকার। এত বেশি রোগীকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের ঘাটতি রয়েছে দেশের হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলিতে। তাছাড়া মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের দামও অনেক। ছোটখাটো পোর্টেবল ভেন্টিলেটরের সংখ্যাও হাতে গোনা। কম খরচে এবং বিদ্যুতের অপচয় বাঁচিয়ে পোর্টেবল ভেন্টিলেটর তৈরির কাজে নেমেছে দেশের অনেক সংস্থাই। ছোট ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম থেকে আইআইটি বা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট গুলিতেও তৈরি হচ্ছে ভেন্টিলেটর।
কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা বানিয়েছে স্বয়ংক্রিয় অ্যাম্বু ব্যাগ ভেন্টিলেশন পদ্ধতি। স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অ্যাম্বু ব্যাগের মাধ্যমে রোগীর শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেবে একটি বিশেষ ডিভাইস।
করোনা রোগীদের চিকিৎসায় বিশ্বের সবচেয়ে কম দাবি ভেন্টিলেটর বানিয়ে নজির গড়েছে দেশের অন্যতম বড় ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম ডায়ানামেটিক টেকনোলজি। বেঙ্গালুরুর ডায়ানামেটিক টেকের তৈরি এই ভেন্টিলেটরের দাম মাত্র আড়াই হাজার টাকা। এত কম দামে পোর্টেবল ভেন্টিলেটর এখনও অবধি বিশ্বের কোনও সংস্থাই বানাতে পারেনি।