দ্য ওয়াল ব্যুরো: অজানা এক শত্রুর বিরুদ্ধেই লড়াই চালাচ্ছে মানবসভ্যতা। এই শত্রু বড়ই ভয়ঙ্কর। যখন তখন ভোল বদলাতে পারে, এর আক্রমণের পদ্ধতিও অনেকটাই আড়ালে। মারণ ভাইরাস বিটা-করোনার এই স্ট্রেন সার্স-কভ-২ কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এই নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যেওও নানা মত রয়েছে। তবে আতঙ্কের যে বিষয়টা মাথাচাড়া দিয়েছিল, যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হাওয়ায় (অ্যারোসল) ছড়ায় কিনা, সেই নিয়ে ভরসার কথা শুনিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। করোনাভাইরাস ‘এয়ারবোর্ন’ নয়, অর্থাৎ হাওয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা রাখে না। বরং এটি ছড়াচ্ছে অন্যভাবে।
এয়ারবোর্ন নয় করোনা, সংক্রমণ ছড়াচ্ছে ‘রেসপিরেটারি ড্রপলেটে’
করোনাভাইরাস এয়ার ড্রপলেটে ছড়াতে পারে এই বিষয়ে গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC), লস এঞ্জেলসের বিজ্ঞানীরা । নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন (NEJM)বিজ্ঞান পত্রিকায় ওই গবেষণার রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল।
নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের সেই রিপোর্ট
https://twitter.com/NEJM/status/1239948357985955840?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1239948357985955840&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.four.suk.1wp.in%2Fnews-novel-coronavirus-can-survive-on-surfaces-or-in-air-for-several-hours-study%2F
বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, যে কোনও ভাইরাসেরই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বাহিত হওয়ার জন্য একটা আধার দরকার হয়। যাকে অবলম্বন করেই এরা ছড়িয়ে পড়তে পারে অথবা এক শরীর থেকে অন্য শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। এই আধার হচ্ছে বাতাস, কাঠ, প্লাস্টিক বা এমনই কোনও অজৈব বস্তু। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে না এই ভাইরাল স্ট্রেন। বরং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচা-কাশি-থুতু-লালাকে আধার বানিয়ে অর্থাৎ ‘রেসপিরেটারি ড্রপলেট’-এর মাধ্যমে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়াতে পারে। এই রেসপিরেটারি ড্রপলেট এতটাই ভারী যে এটি বাতাসে বেশিক্ষণ ভেসে থাকতে পারে না। মাটিতে বা কোনও সারফেসে জমে থাকে। কিন্তু যদি আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি কেউ থাকে (এক মিটারের কম দূরত্বে) তাহলে সেই ড্রপলেট সুস্থ ব্যক্তির শরীরের সংস্পর্শে এসে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটায়। আর এইভাবেই মানুষের থেকে মানুষে সংক্রমণ (Human to Human Transmission) সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।

হু জানাচ্ছে, জড় বস্তু যেমন প্লাস্টিক, স্টিল বা কাঠের সারফেসে ৩-৪ দিন অবধি বেঁচে থাকতে পারে ভাইরাস। কাজেই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই সারফেসের সংস্পর্শে যেই আসবে, সেই আক্রান্ত হবে। তাই খোলা জিনিস বা নিজের বাড়িতে হোক অথবা বাইরে, কোনও এমন সারফেসে হাত দিলে সঙ্গে সঙ্গে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা উচিত।
https://twitter.com/WHO/status/1243972193169616898
হাঁচি-কাশি থেকে সাবধান, পারস্পরিক দূরত্ব থাক এক মিটার
হু বলছে, মানুষের শরীরে কম করেও ৭-১৪ দিন অথবা ২৫ দিন অবধি বেঁচে থাকতে পারে এই মারণ ভাইরাস। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি লক্ষণহীন অর্থাৎ Asymptomatic। ভয়ের কারণ এটাই। যার শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে অথচ বাইরে কোনও উপসর্গ নেই এমন লক্ষণহীন বাহকের থেকেই সামাজিক স্তরে (Community Transmission)সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়ায়। তাই পারস্পরিক দূরত্ব সবসময় এক মিটার রাখা উচিত। সংক্রমণের নিরিখে আমাদের দেশ এখনও দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ স্টেজ-২ তে রয়েছে। কিন্তু সামাজিক মেলামেশা বাড়লে খুব দ্রুতই স্টেজ-৩ তে চলে যাবে অর্থাৎ গোষ্ঠীর মধ্যে বা সামাজিক স্তরেও সংক্রমণ শুরু হয়ে যাবে। হু সতর্ক করছে, এই সময় যতটা সম্ভব মেলামেশা এড়িয়ে চলুন, পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখুন এবং অবশ্যই পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখুন।