দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা হলেই নির্ঘাত মৃত্যু এই ধারণা এখন বদলেছে। ষাটোর্ধ্ব প্রৌঢ় থেকে একশো ছুঁইছুঁই প্রবীণরাও করোনা সারিয়ে দিব্যি সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরে নতুন নজির গড়েছেন। বয়স ১০০ বছর বা তারও বেশি, এমন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা করোনা জয় করেছেন, ইদানীং কালে এমন উদাহরণ অসংখ্য। সেই তালিকায় এবার ঢুকে পড়ল আরও একটা নাম। কর্নাটকের হাল্লাম্মা। ১০০ বছরের এই ঠাকুমা শুধু সংক্রমণ সারিয়েছেন তা নয়, করোনাকে একেবারে মামুলি সর্দি-জ্বরের সঙ্গেই তুলনা করেছেন। বৃদ্ধার মনের জোর ও সাহস দেখে মুগ্ধ দেশ।
কর্নাটকের বেল্লারি জেলার হুভিনা হাদাগালি টাউনের বাসিন্দা হাল্লাম্মা। প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ১৬ জুলাই। তার আগে বৃদ্ধার ছেলে ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছিলেন। ৩ জুলাই নাগাদ তাঁর সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। তবে ততদিনে বৃদ্ধার শরীরেও ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে যায়।
“সর্দি-জ্বর হলে যেমন হয়, আমার ঠিক তেমনই হয়েছিল। কাশি হচ্ছিল। গা গরম হয়েছিল। তারপরেই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল”, বলেছেন হাল্লাম্মা। টেস্টে তাঁর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তারপরেই চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে বৃদ্ধার বৌমা ও নাতিরও। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতালে কেমন ছিল অভিজ্ঞতা? বৃদ্ধা বলেছেন, ডাক্তাররা খুব ভালভাবে তাঁর খেয়াল রেখেছিল। সঠিক সময় খাবার দিত। পুষ্টিকর ডায়েটের দেওয়া হয়েছিল। “আমি রোজ একটা করে আপেল খেতাম। ডাক্তাররা নিয়ম করে ট্যাবলেট দিত আর সময় করে ইঞ্জেকশন। তাতেই ভাল হয়ে যাই।”
মাত্র ৬ দিনেই সংক্রমণ সারিয়েছেন হাল্লাম্মা, বলেছেন তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডাক্তাররা। বৃদ্ধার মনের জোর দেখে তাঁরাও অবাক। সংক্রমণ মৃদু বা মাঝারি সেটা বড় কথা নয়, মারণ ভাইরাস শরীরে ঢুকেছে এই ভাবনাতেই ভেঙে পড়েন অনেকে। বিশেষত প্রবীণরা। এমনও দেখা গেছে, সংক্রমণ মৃদু কিন্তু অতিরিক্ত চিন্তায় হার্টের অবস্থা খারাপ হয়েছে অনেক রোগীরই। যাঁদের হাঁপানি বা শ্বাসের রোগ আছে, তাঁদের শ্বাসকষ্ট আরও তীব্র হয়েছে। ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। কিন্তু হাল্লাম্মা শুরু থেকেই চাঙ্গা ছিলেন। মনের জোর ধরে রেখেছিলেন। নিয়ম করে ওষুধ আর খাবার খেয়েছেন। গোড়া থেকেই নাকি তিনি বলছেন, তাঁর তেমন কিছুই হয়নি। মামুলি সর্দি-জ্বরের মতো। ঠিক সেরে যাবেন। এই মনের জোর আর আত্মবিশ্বাসের কারণেই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। ওষুধে খুব ভাল কাজ দিয়েছে। এখন সংক্রমণ সারিয়ে ঝরঝরে শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন বৃদ্ধা।