দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীর হৃদস্পন্দন শোনা যাবে, শ্বাসের সমস্যা হচ্ছে কিনা সেটাও জানা যাবে, কিন্তু রোগীর কাছে যাওয়ার দরকার পড়বে না। ডাক্তারদের ঝুঁকি কমাতে এবার এমনই ডিজিটাল স্টেথোস্কোপ বানিয়ে ফেলল বম্বে আইআইটি।
করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে দেশের সমস্ত বড় বড় আইআইটি, আইআইএসসি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনিক্যাল কলেজ-ইউনিভার্সিটি, সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম। সবাই নিজেদের মতো করে সুরক্ষার কবচ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সংক্রমণ ঠেকাবার মতো বিশেষ ফেস-মাস্ক, পোর্টেবল স্যানিটাইজেশন ডিভাইস এবং কোয়ারেন্টাইনের ডেটা স্টোরের জন্য বিশেষ অ্যাপ আগেও বানিয়েছে মুম্বইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। এবার তাদের চমক ডিজিটাল স্টেথোস্কোপ।
স্মার্ট স্টেথোস্কোপের নাম AyuSynk। আইআইটির গবেষকরা বলছেন, এই আয়ু ডিভাইসের সাহায্যে রোগীদের ধারেকাছে না গিয়েও তাঁদের পরীক্ষা করতে পারবেন ডাক্তাররা। খুব সহজে বলতে গেলে এই ডিজিটাল স্টেথোস্কোপটি লম্বা তারের মাধ্যমে যুক্ত করা থাকবে মোবাইল বা ল্যাপটপের সঙ্গে। অর্থাৎ রোগীর খুব কাছে বসে পরীক্ষা করার দরকার পড়বে না ডাক্তারদের। রোগীর হৃদস্পন্দন যা ধরা পড়বে স্টেথোস্কোপে, সেই ডেটা ব্লু-টুথের মাধ্যমে ট্রান্সফার হয়ে যাবে মোবাইলে বা ল্যাপটপে। এই AyuSynk অন্যান্য সাধারণ স্টেথোস্কোপের সঙ্গে যুক্ত করেও দেখা গেছে রেজাল্টের কোনও হেরফের হয়নি। বরং রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে অনেক সহজেই তাঁদের পরীক্ষানিরীক্ষা করতে পারছেন ডাক্তাররা।

এই গবেষণার মূল মাথা আদর্শ কে বলেছেন, “রিল্যায়ান্স হাসপাতালের ডাক্তার নাম্বিরাজ কোনার ও পিডি হিন্দুজা হাসপাতালের ডাক্তার ল্যান্সলট পিন্টোর সহযোগিতায় এই ডিজিটাল আয়ু ডিভাইস তৈরি করা হয়েছে। ডাক্তারদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এই ডিভাইস খুবই কাজে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।” তিনি বলেছেন, ইতিমধ্যেই এই ডিজিটাল স্টেথোস্কোপ কেইএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হায়দরাবাদের অ্যাপোলো হাসপাতালও এই ডিজিটাল স্টেথোস্কোপ চেয়ে পাঠিয়েছে।
রেসপিরেটারি ড্রপলেটে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়ছে এমন দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। আক্রান্ত রোগীদের কাছাকাছি থাকার কারণে সংক্রামিত অনেক ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা। দিল্লির মহল্লা ক্লিনিকে রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়েই সংক্রামিত হন এক ডাক্তার। তাঁর থেকে আরও ৯০০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, মুম্বইয়ের ওকহার্ড হাসপাতালে ইতিমধ্যেই কোভিড-১৯ পজিটিভ তিনজন ডাক্তার ও অন্তত ২৬ জন নার্স। এই জটিল পরিস্থিতিতে দেশে এমনিতে ফেস-মাস্ক, পিপিই, হেডগিয়ার বা ফেস-শিল্ডের অভাব রয়েছে। এমন অবস্থায় সংক্রামিত রোগীদের সংস্পর্শে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন ডাক্তাররা। তাঁদের বাঁচাতেই এমন ডিজিটাল স্টেথোস্কোপের ভাবনা বম্বে আইআইটির।
বম্বে আইআইটির বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ইনকিউবেশন) সেন্টারে তৈরি হয়েছে এই ডিভাইস। সহযোগিতা করেছে মহারাষ্ট্রের আরও ছ’টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও সাতটি মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট।