
শেষ আপডেট: 5 June 2018 10:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাম্পত্য সম্পর্কের রোম্যান্টিকতাকে ওরকম ‘পাবলিক’ হয়তো করেননি এ দেশের কোনও রাজনীতিক। তা-ও কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের মেয়ে সুনন্দা পুষ্করের সেটা ছিল তৃতীয় বিয়ে। কানাডিয়ান স্ত্রী-র সঙ্গে বিয়ে ভেঙে দিয়ে কংগ্রেস সাংসদ তথা বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শশী তারুর সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন দ্বিতীয়বার। সংসদ ভবন, বিদেশ মন্ত্রক বা মন্ত্রিসভার বৈঠকে বুঝি তখন একা দেখা যেত শশীকে। নইলে তাঁর অষ্টপ্রহরের সঙ্গী ছিলেন সুনন্দা।
অথচ সেই সুনন্দার মৃত্যু মামলায় এ বার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ শশী তারুরকে। আগামী ৭ জুন আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে তাঁকে।
২০১৪ সালের এক বিকেলের ঘটনা। সে দিন কংগ্রেসের অধিবেশন ছিল তালকাটোরা স্টেডিয়ামে। স্বমহিমায় সেখানে ছিলেন শশী। কিন্তু অধিবেশন শেষ হতেই সন্ধ্যায় নিউজ ব্রেক করে বেসরকারি চ্যানেলগুলি। দিল্লিতে তখন সরকারি বাসভবন রয়েছে শশীর। অথচ স্ত্রী সুনন্দা পুষ্করের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে লুটিয়েন দিল্লিরই এক অভিজাত হোটেল থেকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছিল, সুনন্দার মৃত্যু হয়তো স্বাভাবিক নয়! তাঁর অবসাদের নেপথ্যে হয়তো কোনও কারণ রয়েছে।
এর কিছু দিন আগেই স্বভাবে ফ্ল্যাম্বয়েন্ট শশীর সঙ্গে এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের সম্পর্ক নিয়ে গসিপে মেতে উঠেছিল দিল্লির পেজ থ্রি। শোনা যাচ্ছিল, ওই পাক ‘সুন্দরীকে’ শশী-সুনন্দার সংসারে মেঘ ঘনিয়েছে। ফলে সুনন্দার মৃত্যুর পরই দুয়ে দুয়ে চার করতে শুরু করে দেয় অনেকে।
শুরুতে পুলিশ বলেছিল, সুনন্দাকে হয়তো বিষ খাইয়ে মারা হয়েছে। কিন্তু গত চার বছর ধরে তদন্তের পর পুলিশ এখন চার্জশিটে দাবি করেছে, সুনন্দা খুন হননি। আত্মহত্যা করেছিলেন। সে জন্য এক প্রকার দায়ী ছিলেন শশীই। আকছাড় ঝগড়া হত দু’জনের। সেই অবসাদ কাটাতে পিল খেতেন সুনন্দা। স্বামীর নিষ্ঠুরতাই তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০১৪-র ৮ জানুয়ারি সুনন্দা শশীকে একটি মেল করেন। তাতে তিনি লেখেন, "আমার বাঁচার আর কোনও ইচ্ছে অবশিষ্ট নেই। আমি খালি মরতে চাই।" সুনন্দার এই গভীর অবসাদের প্রতি কোনও সহানুভূতিই দেখাননি শশী। এই অভিযোগ করা হয়েছে চার্জশিটে। স্ত্রী যে দিনের পর দিন অবসাদ কাটানোর ও ঘুমের ওষুধ খাচ্ছেন, তা জেনেও সে দিকে নজর দেননি শশী। পুলিশ ৩ হাজার পাতার চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে একমাত্র শশী তারুরের নাম করেছে। শশী অবশ্য সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কংগ্রেস বলেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শশীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। কারণ, তিরুবনন্তপুরম আসনটি লোকসভা ভোটে জিততে চায় বিজেপি। গত ভোটে ওখানে দ্বিতীয় হয়েছিল তারা। শশীকে জেলে পুরে লোকসভা ভোটে কেরলে এই প্রথমবার খাতা খুলতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে। সুনন্দা পুষ্করের অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলায় আগামী ৭ জুন আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে তাঁকে। ২০১৪ সালে দিল্লির এক ফাইভ স্টার হোটেলের ঘরে রহস্যজনক ভাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় সুনন্দাকে। পুলিশের চার্জশিটে বলা হয়েছে, শশী থারুর স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করতেন। মৃত্যুর একদিন আগে সুনন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে এক পাকিস্তানী সাংবাদিকের অবৈধ সম্পর্ক আছে। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে দাবি করে, সুনন্দাকে বিষ খাইয়ে মারা হয়েছে। পরে চার্জশিটে বলা হয়, সুনন্দা খুন হননি। আত্মহত্যা করেছেন। স্বামীর সঙ্গে তাঁর প্রায়ই ঝগড়া হত। সুনন্দা অবসাদ কাটানোর জন্য প্রায়ই পিল খেতেন। স্বামীর নিষ্ঠুরতাই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৪-র ৮ জানুয়ারি সুনন্দা শশীকে একটি মেল করেন। তাতে তিনি লেখেন, "আমার বাঁচার আর কোনও ইচ্ছে অবশিষ্ট নেই। আমি খালি মরতে চাই।" সুনন্দার এই গভীর অবসাদের প্রতি কোনও সহানুভূতিই দেখাননি শশী। এই অভিযোগ করা হয়েছে চার্জশিটে। স্ত্রী যে দিনের পর দিন অবসাদ কাটানোর ও ঘুমের ওষুধ খাচ্ছেন, তা জেনেও সে দিকে নজর দেননি শশী। পুলিশ ৩ হাজার পাতার চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে একমাত্র শশী থারুরের নাম করেছে। শশী অবশ্য সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কংগ্রেস বলেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শশীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে।