দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ৩১ জুলাই উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ থেকে পালায় এক কিশোরী ও এক যুবক (Elope)। তাদের বিয়েতে রাজি ছিল না মেয়েটির বাড়ির লোক। তাই তারা পালিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিল। পরে দিল্লি থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। মধ্যপ্রদেশে খুন করা হয় দু’জনকে। মেয়েটির দেহ ফেলা হয় মধ্যপ্রদেশে। ছেলেটির দেহ ফেলা হয় রাজস্থানে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এই খবর জানিয়েছে।
মেয়েটির পরিবারের লোকেরাই খুন করেছে দু’জনকে। তারা দিল্লিতে দু’জনের সন্ধান পায়। তাদের অপহরণ করে গাড়িতে নিয়ে যায় মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ অঞ্চলে। সেখান থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় গোয়ালিয়রে। পথে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছেলেটিকে আক্রমণ করে। ছেলেটির গোপন অঙ্গে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঝাঁসি যাওয়ার পথে হাইওয়েতে ছেলেটি খুন হয়েছিল।
পরে রাজস্থান পুলিশ ঢোলপুর অঞ্চল থেকে মেয়েটির দেহ উদ্ধার করে। হলুদ রং-এর প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে তাকে খুন করা হয়।
ছেলেটির দেহ পাওয়া যায় ৫ অগাস্ট। ১০ অগাস্ট তার বাবা থানায় মিসিং ডায়েরি করে। রাজস্থানে মেয়েটির দেহ পাওয়ার পরে পুলিশের সন্দেহ হয়, দু’জনের মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক আছে। মেয়েটির পরিবারের লোকজনের মোবাইলের লোকেশন দেখে পুলিশ জানতে পারে, তারা প্রথমে দিল্লিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে যায় ভিন্দ, গোয়ালিয়র ও ঢোলপুরে। মেয়েটির বাড়ির লোককে জেরা করে দু’টি খুন সম্পর্কে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার আর একটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
গত ১০ সেপ্টেম্বর হায়দরাবাদের সাইদাবাদে এক ছ'বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। পাল্লাকোণ্ডা রাজু নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তার দেহ পাওয়া যায়। তার পর থেকেই রাজুর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে হায়দরাবাদ থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে রেললাইনের ধারে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের ধারণা, দেহটি পাল্লাকোণ্ডা রাজুর। হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার অঞ্জনি কুমার বলেন, মনে হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে।
তেলঙ্গানা পুলিশ টুইটারে মৃতের ছবি দিয়েছে। এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে, দেহটি রাজুরই কিনা। তবে পুলিশ বলছে, রাজুর হাতে যেমন ট্যাটু ছিল, মৃতের হাতেও তাই আছে। হায়দরাবাদের পুলিশ প্রধান বলেন, "হাতের ট্যাটু ও চুলের স্টাইল দেখে যুক্তিসঙ্গতভাবে অনুমান করা যায়, দেহটি রাজুর। ফিঙ্গারপ্রিন্ট অ্যানালিসিস করে এব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
শিশুকন্যাকে খুন ও ধর্ষণের পরে তেলঙ্গানার মন্ত্রী মাল্লা রেড্ডি বলেছিলেন, অপরাধীকে এনকাউন্টার করে মারা উচিত। গত মঙ্গলবার তিনি বলেন, "আমরা ওই খুনি ও ধর্ষককে ধরবই। তারপরে তাকে এনকাউন্টার করা হবে।"
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিশুকন্যার বাড়ির কাছেই থাকত রাজু। তার বয়স ৩০। সে ছিল মাতাল। অতীতে তার বিরুদ্ধে নানা অসামাজিক কাজের অভিযোগ আছে। তবে সরাসরি অপরাধের কোনও রেকর্ড নেই। পুলিশ তার ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছিল, রাজু সম্পর্কে কেউ তথ্য দিতে পারলে তাকে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।