দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীর ভালো থাকবে ভেবে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে খেয়েছিলেন বড় সাইজের একটি কাঠবিড়ালি। তা-ও আবার রান্না না করে, কাঁচা। কাঠবিড়ালির পাকস্থলী, গল ব্লাডার, এমনকী কিডনিও। খাবার কদিন পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন দুজনে। জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি শুরু হয়। দুজনকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু মারা যান দুজনেই। প্রথমে স্বামী মারা যান, তার কদিন পরেই মারা যান স্ত্রী-ও। তাঁদের চারটি ছোট ছোট সন্তান রয়েছে।
পরীক্ষা করে দেখা যায়, বড় আকারের ওই কাঠবিড়ালির মাংস থেকে তাঁদের প্লেগের সংক্রমণ হয়েছি। ভয়াবহ ধরনের সেপ্টিসেমিক প্লেগ।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই মঙ্গোলিয়া আর রাশিয়ার সীমান্তের কাছে সাগান্নুর শহরে কদিন ধরে আতঙ্কের পরিবেশ। দরকার না পড়লে কেউ বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে না। চলছে স্বাস্থ্য দফতরের কড়াকড়ি। শহরটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক স্থানীয় প্রতিনিধি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই এলাকার অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন, কাঠবিড়ালির দেহের অংশ রান্না না করে খেলে শরীর ভালো থাকে। ওই অঞ্চলে এক ধরনের বড় কাঠবিড়ালি পাওয়া যায়। তবে এর আগে কখনও কেউ খেয়েছেন কি না, বা খেয়ে প্লেগে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা তা তাঁদের জানা নেই।
সূত্রের খবর, ওই দম্পতি মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়ে মারা যান। শারীরিক যম্ত্রণা তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে চামড়ার রং কালো হয়ে যায় ভিতরের রক্তপাত থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে প্লেগ ঠিক সময়ে ধরা না পড়লে মৃত্যুর হার খুবই বেশি।
প্লেগে মৃত ওই দম্পতির কাছাকাছি এসেছিলেন এমন বেশ কিছু মানুষকে ঘরে কার্যত আটকে রাখা হয়েছে। আটকে পড়েছেন বেশ কিছু পর্যটকও।
প্লেগ ভয়াবহ ছোঁয়াচে রোগ। মূলত ইঁদুর ও কাঠবিড়ালি জাতীয় প্রাণী থেকে সংক্রমণটি ছড়ায়। সাতশো বছর আগে প্লেগ মহামারীতে ইউরোপের এক তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। উনবিংশ শতকে চিন, হংকংয়ে প্লেগে লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারান। প্লেগ এখনও নির্মূল হয়নি। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ভারতের কিছু শহরেও প্লেগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বেশ কিছু মানুষ। সারা পৃথিবী জুড়েই মাঝেমধ্যে প্লেগের ঘটনা শোনা যায়। বিশেষজ্ঞেরা বলেন, কোনও কিছুর মাংসই কাঁচা খাওয়া বিপজ্জনক। অনেক ধরনের সংক্রমণই হতে পারে। যার মধ্যে প্লেগ অন্যতম।