
শেষ আপডেট: 8 November 2023 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন এলেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তদন্তের নামে সিবিআই, ইডি, আয়কর বিভাগের মতো এজেন্সিগুলিকে দিয়ে বিরোধী দলগুলির নেতা, নেত্রীদের হেনস্তা করা শুরু করে। বুধবারও তৃণমূল ভবন থেকে এই অভিযোগে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। অতীতে একাধিকবারব এই অভিযোগ শোনা গিয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের মুখে। তাঁদের বক্তব্য, শুধু এরাজ্যে নয়, বিজেপিব বিরোধী প্রতিটি রাজ্যেই ভোট এলে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির সক্রিয়তা বাড়ে।
সাংবাদিকদের ডিজিটাল সামগ্রী (মোবাইল, ল্যাপটপ) বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কিসান কল এবং বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার বেঞ্চে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলছিল। মামলার শুনানিতে উঠে আসে, কেন্দ্র এজেন্সি লেলিয়ে সংবাদ মাধ্যমেরও কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে।
এই প্রসঙ্গেই কেন্দ্রকে তীব্র ভর্ৎসনা করে আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এজেন্সিগুলো সর্বশক্তিমান হয়ে উঠলে তা খুবই বিপজ্জনক বিষয়। এজেন্সি দিয়ে দেশ চালানো হবে, এমনটা হতে পারে না।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল সহ সারা দেশে বিরোধীদের আনা ওই অভিযোগকেই এবার কার্যত ‘স্বীকৃতি’ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিজেপিকে ঠেকাতে সর্বভারতীয়স্তরে ইন্ডিয়া জোট গড়তেই রাজ্যে রাজ্যে বিরোধীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে সক্রিয় করার অভিযোগ উঠেছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। রাজধানী দিল্লিতেও আবগারী কাণ্ডে কেজরিওয়াল সরকারের উপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির খাঁড়া ঝুলছে।
এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁদের বক্তব্য, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক। দোষ প্রমাণিত হলে শাস্তিও। কিন্তু স্রেফ প্রতিহিংসার কারণে বেছে বেছে বিরোধীদের হেনস্তা করা বরদাস্ত করা হবে না।
বুধবার তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে শশী পাঁজাও নারদ তদন্তের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, “রেশন দুর্নীতির অভিযোগে যদি রাজ্যের এক মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা যায়, তাহলে নারদ কাণ্ডে অভিযোগের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও শুভেন্দুকে গ্রেফতার তো দূরে থাক জিজ্ঞসাবাদও কেন করা হচ্ছে না। এখানেই তো কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।”