দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতা রিতা বহুগুণা যোশি বলেন, জিতিন প্রসাদের পরে রাজস্থানের কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলটও তাঁদের দলে যোগ দিতে চলেছেন। এমনিতে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ জিতিন প্রসাদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়, এবার কি শচীন পাইলটও মোদীর দলে আসছেন। এদিন রিতা বহুগুণা যোশির মন্তব্য সেই জল্পনাকেই উস্কে দেয়। কিন্তু শচীন নিজে গেরুয়া পার্টিতে যোগ দেওয়ার সব জল্পনা উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, বিজেপি থেকে কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
রিতা বহুগুণা নিজে ২৫ বছর ধরে কংগ্রেস করেছেন। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এদিন রাজস্থানের কংগ্রেস নেতা বলেন, "রিতাজি বলেছেন, তাঁর সঙ্গে শচীনের কথা হয়েছে। তিনি হয়তো শচীন তেণ্ডুলকরের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমার সঙ্গে তাঁর কথা বলার সাহসই নেই।"
কংগ্রেস গত বছর অভিযোগ করে, বিজেপি রাজস্থানে অশোক গহলৌতের সরকার ফেলার জন্য শচীনকে টোপ দিয়েছে। শচীনও কংগ্রেস ত্যাগের জন্য প্রায় প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। রাহুল পরে সংবাদ মাধ্যমে বলেন, শচীনকে বলা হয়েছে, রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেসে কিছু রদবদল করা হবে। সোমবার শচীন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, এই প্রতিশ্রুতি এখনও পালিত হয়নি। এর পরেই জল্পনা শুরু হয়, তিনি কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন?
বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলও। তিনি বলেন, 'মরব, তবু বিজেপিতে যাব না'। জিতিন প্রসাদ যেভাবে দলত্যাগ করেছেন, তাকে তিনি বলেন 'প্রসাদ রাম পলিটিক্স'। এর পিছনে কোনও আদর্শ নেই। কেবলই ব্যক্তিস্বার্থ আছে।
তাঁর কথায়, "আমাদের পার্টি নেতৃত্ব কী করেছেন বা করেননি, তা নিয়ে আমি কোনও কথা বলব না। এখন অনেক সিদ্ধান্তই আদর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে না। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে প্রসাদ রাম পলিটিক্সের ভিত্তিতে।" পরে তিনি বলেন, "একসময় ছিল আয়ারাম গয়ারাম পলিটিক্স। পশ্চিমবঙ্গে কী হয়েছিল আমরা সবাই দেখেছি। অনেকে ভাবল, বিজেপি জিতবে। তাই তারা দলত্যাগ করল। এক্ষেত্রে কেউ আদর্শের ভিত্তিতে ভোটে লড়ছে না। তারা ভাবছে, ভোটে জিতলে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবে।" সিব্বলের মতে, কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে।