
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 28 November 2024 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্যসাথীর প্রকল্প টাকা নয়ছয় হয়েছে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এ বিষয়ে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা স্বাস্থ্যসাথীর টাকা মিসইউজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে রাজ্য। এজন্য তদন্তও শুরু হয়েছে।
এদিন বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে মমতা বলেন, "স্বাস্থ্য সাথীর টাকা যে বা যারা মিসইউজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। মনে রাখতে হবে এটা জনগণের টাকা।"
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আপনি কাজ করলেন না অথচ ঘুরিয়ে টাকা নিলেন, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে জুনিয়র চিকিৎসকরা টানা কর্মবিরতিতে নেমেছিলেন। ওই সময় চিকিৎসকদের একাংশ সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করলেও বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসা করেছেন বলে অভিযোগ। বস্তুত, বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসা করলে চিকিৎসকরাও পারিশ্রমিক পান।
আরজি কর কাণ্ডের সময় অভিযোগ উঠেছিল, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নষ্ট করে বেসরকারি হাসপাতালগুলির সুবিধা করে দিতেই একাংশ চিকিৎসক কর্মবিরতিতে নেমেছেন। এ ব্যাপারে রাজ্যের যুক্তি, কেউ যদি সরকারি ক্ষেত্রে কর্মবিরতি পালন করেন তাহলে একই সময়ে তিনি বেসরকারি ক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করতে পারেন? ওই ঘটনারই তদন্তে নেমেছে রাজ্য।
এদিন বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক সমীর কুমার জানা প্রশ্ন করেন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে মোট কত মানুষ উপকৃত হয়েছেন আর কত টাকা খরচ হয়েছে? জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ২১ লক্ষ ২৭ হাজার ২৪৯ জন মানুষ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন। এজন্য ২ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৮০ লক্ষ ২৫ হাজার ৮৭৬ জন উপকৃত হয়েছেন। মোট ব্যয় করা অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা।
ট্যাব কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গটিও এদিন ওঠে বিধানসভায়। এ ব্যাপারে এদিন বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "ট্যাব কেলেঙ্কারি ঠেকাতে আমরা একটা নতুন আইন তৈরি করেছি। রাজস্থান থেকে শুরু করে জামাতারা গ্রুপ এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা আমরা খরচ করেছি ট্যাবের জন্য। তার কিছু টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। আমরা একটা সিস্টেম করছি সমস্ত প্রকল্পের জন্য। প্রকল্পের নির্দিষ্ট টাকা অন্য কারও কাছে গেলে যিনি এর দায়িত্বে রয়েছেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"