
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 5 April 2025 21:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেছিলেন, ২৬ হাজার চাকরি যাওয়ার নেপথ্যে অন্যতম নাটের গুরু হলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। মুখ্যমন্ত্রী এখনও যখন যোগ্যদের চাকরি দেওয়ার উপায় সন্ধান করছেন, তখন শনিবার বিকাশবাবু পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, দুর্নীতি মানে দুর্নীতিই, তাতে যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করা যায় না।
বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এদিন দ্য ওয়াল-কে বলেন, "গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই দুর্নীতিগ্রস্ত। প্রক্রিয়া যখন জন্ম থেকেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তখন তার ফসল হিসেবে কে যোগ্য, কে অযোগ্য তা নির্ণয় করার কোনও দরকারই নেই। সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেই প্রয়োজনও পড়ে না”। বিকাশবাবুর কথায়, “আদালত বারবার বলেছে, যে পদ্ধতিতে নিয়োগ হয়েছে সেই পদ্ধতিটাই ভুল। তাতে জালিয়াতি হয়েছে। সুতরাং সেই জালিয়াতির ফাঁদে যাঁরা জড়িয়ে পড়েছেন তাঁদের মধ্যে কে যোগ্য, কে অযোগ্য সেটা বাছাই করা আদালতের দায়ই নয়।"
বিকাশরঞ্জন খোলসা করে বুঝিয়ে দেন,"একমাত্র রাজ্য সরকার যদি প্রথমেই বলত যে তাদের ভুল হয়ে গেছে, আমরা স্বচ্ছভাবে নিয়োগ করব তাহলে এই সমস্যাই তৈরি হত না। আজকে যে মানবিকতা, দুঃখের কথা উঠছে, চাকরিহারাদের কেউ কেউ আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছেন, এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের ভূমিকা অভিভাবকের মতো, সাংবিধানিক ভাবে যে ভূমিকা পালন করা উচিত সেটা তারা পালন করেনি। তারা দুর্নীতিটাকেই লালন করতে চেয়েছে। এখানে তো আদালতের কিছু করার নেই।"
ঘটনা হল, আরজি কর আন্দোলনের সময়ে যে নাগরিক আন্দোলন দেখেছিল গোটা রাজ্য, তা ছিল একরকম সরকার-বিরোধী ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এখন ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পর পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন ভোটে এখনই এহেন ইস্যুর প্রভাব পড়ছে না মানে ভবিষ্যতেও যে পড়বে না, তা হলফ করে বলা যায় না। প্রত্যাশিত ভাবেই সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা চলছেই। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও এই দায় গোটাটাই তাঁর উপর ফেলেছেন। তাঁর কথায়, ঘটনার মূল দোষী রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীই সগর্বে ঘোষণা করেছেন বেআইনি চাকরি হলেও তিনি টিকিয়ে রাখবেন। সব জানার পরেও যিনি বলেন কারও চাকরি যাবে না, তাঁকে কী বলা যাবে! এক এবং একমাত্র তিনিই দায়ী।