দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুল সংশোধন! হ্যাঁ, ঠিকই দেখছেন। এক মাসের মাথায় ভুল সংশোধন হল কাজী নজরুল ইসলামের ফলকে তাঁর জন্ম তারিখ ও মৃত্যু সালের।
বিধাননগরের হাডকো মোড়ে কবি নজরুল ইসলামের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয় ২০২০ সালে। সেই মূর্তির তলায় জ্বলজ্বল করছিল তারিখের ভুল। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম তারিখ ও মৃত্যু সালের বিপর্যয়। এ নিয়ে খবর করার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কো-অর্ডিনেটর তথা বর্তমান পৌরপিতা শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু, এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমাও চান। প্রতিশ্রুতি দেন ভুলটা ঠিক করে নেওয়ার।
সেই মতোই মাস কাটতে না কাটতেই ঠিক হয়ে গেল কবির জন্ম তারিখ ও মৃত্যু সাল। এখন গেলেই চোখে পড়বে সঠিক জন্ম তারিখ ২৪ মে ও সঠিক মৃত্যু সাল ১৯৭৬। আগে এখানে যেটা ছিল ২৫ মে ও ১৯৭৩।
প্রসঙ্গত, বাংলার রাজনীতিতে গত কয়েক বছর ধরে কবি, সাহিত্যিক, মনীষীদের নিয়ে একাধিক ভুলে ভরা তথ্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। এ ব্যাপারে তৃণমূল-বিজেপি কেউ বাদ নেই। সব দলের নেতারাই মণিমুক্তো ছড়িয়েছেন। এই যেমন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছিলেন, সহজপাঠের লেখক বিদ্যাসাগর। দিলীপ ঘোষের চেয়েও বড় নেতা জেপি নাড্ডা। তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। বাংলায় এসে তাঁর এতই রবীন্দ্র চেতনা জেগে উঠেছিল যে তিনি বলে বসেছিলেন, রবিঠাকুরের জন্ম শান্তিনিকেতনে। তা নিয়ে আবার জোড়াসাঁকোর তৎকালীন বিধায়ক স্মিতা বক্সী বলেছিলেন, মানহানির মামলা হওয়া উচিত!
স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, নেতাজি জয়ন্তীর মতো দিনগুলিতে অনেক জায়গায় মোড়ে মোড়ে এমন সব ফ্রেম দেখা যায় তাতে অনেকেরই মাথা হেঁট হয়ে যায়। কোথাও নেতাজির চেয়ে বড় আকারে দিদির ছবি তো কোথাও বা মদন মিত্রর পায়ের কাছে ভগৎ সিং। অনেকের মতে, এসব ব্যাপারে স্থানীয় স্তরের নেতাকর্মীরাই এই কাণ্ডগুলো ঘটায়। যা নেতানেত্রীদের বিড়ম্বনা বাড়ায় বই কমায় না! তবে এবার সেই স্রোতের উল্টো পথে হেঁটে ভুল সংশোধন করলেন শান্তিরঞ্জন।'