দ্য ওয়াল ব্যুরো : অর্থনীতির বিকাশের গতি হয়ে পড়েছে ধীর। চাহিদায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে দেশ জুড়ে। মোট জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয় ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর। বিকাশের ধীর গতির ফলে ওই ক্ষেত্রটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এই অবস্থায় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য শুক্রবার দেশীয় সংস্থাগুলির কর্পোরেট ট্যাক্সের বোঝা ব্যাপক কমিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনসেক্স সূচক উঠল ২১০০ পয়েন্ট। নিফটিও ছাড়িয়ে গিয়েছে, ১১, ২৫০ পয়েন্ট।
এত কর ছাড় দিলে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব ঘাটতি লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে পূরণ হবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকরা। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেছেন, করছাড় দেওয়ার ফলে রাজকোষে যে প্রভাব পড়বে, সে সম্পর্কে সরকার সচেতন।
এদিন গোয়ায় এক প্রেস বিবৃতিতে নির্মলা সীতারমন বলেন, আগামী ১ অক্টোবর বা তার পরে যে দেশীয় সংস্থাগুলি ইনকর্পোরেটেড হবে, তারা যদি নতুন বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর দেওয়ার সুযোগ পাবে। কোনও কর্পোরেট সংস্থা তৈরি হওয়ার যে আইনি প্রক্রিয়া, তাকে ইনকর্পোরেশন বলা হয়।
অর্থমন্ত্রী একইসঙ্গে জানান, নতুন কার্যকরী করের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫.২ শতাংশ করা হল। যে সংস্থা কোনও ইনসেনটিভ নিচ্ছে না, তাকে সব সারচার্জ সমেত ২৫.২ শতাংশ কর দিতে হবে। নতুন কর কাঠামো কার্যকরী হবে গত ১ এপ্রিল থেকে। সেজন্য অর্ডিন্যান্স এনে সংশোধন করা হবে ১৯৬১ সালের আয়কর আইন।
আগামী মার্চের মধ্যে কর বাবদ ১৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা আদায় হওয়ার কথা ছিল। সীতারমন জানিয়েছেন, কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর জন্য রাজস্ব ১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা কম আদায় হবে।
গত জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে অর্থনীতির বিকাশের হার দাঁড়ায় মাত্র পাঁচ শতাংশ। গত ছ'বছরের মধ্যে বিকাশের হার কখনও এত কমে যায়নি। এরপরেই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে মোদী সরকার।