দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের জিনের গঠন যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি এই ভাইরাসের সংক্রমণে রোগের ধরনও পাল্টাচ্ছে। উপসর্গেও বদল আসছে। শুরুতে করোনার উপসর্গের যে গাইডলাইন তৈরি হয়েছিল, পরে নানা সময় তাতে জরুরি পরিবর্তন করেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। সম্প্রতি ‘পাবলিক হেলথ’ মেডিক্যাল জার্নালে গবেষকরা বলেছেন, জ্বর বা সর্দি-কাশি মানেই ভাইরাসের সংক্রমণ নাও হতে পারে। করোনা সংক্রমণ তখনই বোঝা যাবে, যখন পরপর কয়েকটি উপসর্গ দেখা দেবে শরীরে।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রথম উপসর্গ হচ্ছে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। সেখান থেকে জ্বর। আর জ্বরের সঙ্গেই সর্দি বা শুকনো কাশি। ক্রমাগত কাশি চলতেই থাকবে। এর সঙ্গেই সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হবে। বিশেষত পেশির ব্যথায় কাবু হবে রোগী। বমিভাব, ঝিমুনি একই সঙ্গে দেখা দেবে। কিছুদিন পর থেকেই হজমের সমস্যা শুরু হবে। পেট খারাপও হতে পারে রোগীর।
গবেষকরা বলছেন, এই উপসর্গগুলো যদি টানা চলতে থাকে তাহলেই কোভিড টেস্ট করাতে হবে। এইগুলো প্রাথমিক উপসর্গ। টেস্ট করিয়ে করোনা পজিটিভ ধরা পড়লে চিকিৎসায় দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। কিন্তু রোগ পুষে রাখলে পরে সেটা মারাত্মক আকার নেবে। এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে পারে তীব্র শ্বাসকষ্ট। সেই সঙ্গে বুকে ব্যথা। ঠোঁট ও জিভে নীলচে ছোপ পড়তে পারে। অনেকেরই মুখের স্বাদ ও নাকের গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা চলে যায়। সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা করছেন। বিজ্ঞানী পিটার কুন জানিয়েছেন, প্রি-সিম্পটোম্যাটিক পর্যায়ে অনেকেরই হাতের কনুই, আঙুল বা পায়ের আঙুল, গোড়ালিতে লালচে-বেগুনি র্যাশ হতে দেখা যায়। কখনও সেটা দগদগে ঘা হয়ে যায় আবার কখনও এক সপ্তাহের মধ্যে সেই র্যাশ মিলিয়ে যেতেও দেখা যায়। এমন উপসর্গ দেখা গেলে সতর্ক হতে হবে। এই উপসর্গ করোনার সঙ্কেত হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাছাড়া ভাইরাসের সংক্রমণ হলে সবসময় একটা ঝিমুনি ভাব আসবে। অনেক রোগীরই চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যেতে দেখা গেছে। ভুল বকা বা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। তীব্র মানসিক অবসাদ এমনকি ইনসমনিয়ার উপসর্গও দেখা গেছে রোগীদের মধ্যে।
কিছুদিন আগেই দিল্লি এইমসের ডিরেক্টর ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলেছিলেন, করোনাভাইরাসের যে উপসর্গগুলো গাইডলাইনে জানানো হয়েছিল, বর্তমান সময়ে তার অনেক কিছু বদলে গেছে। ভাইরাস তার জিনের গঠন যত বদলেছে, উপসর্গের ধরনেও বদল এসেছে। এখনকার সময় বেশিরভাগ করোনা রোগীই উপসর্গহীন। রোগের বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় তাই কোভিড টেস্ট হচ্ছে না অনেক রোগীরই। কারণ একটাই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে যে কোভিড সংক্রমণ মানেই শুরুতে জ্বর হবে, বা সর্দি-কাশি অথবা নিউমোনিয়া ধরা পড়বে। সবসময় এমন নাও হতে পারে। ডাক্তাররা বলেছিলেন, হার্ট অ্যাটাকের পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এমন কমবয়সী কয়েকজন রোগীর শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। যেহেতু উপসর্গ ছিল না তাই টেস্টও হয়নি। আচমকাই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন রোগীরা। তাছাড়া কিডনি ফেলিওর, লিভারের সংক্রমণ বা ব্লাড ক্লটের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেক করোনা রোগীই। তাঁদের বেশিরভাগেরই শ্বাসের সমস্যা নেই। ডাক্তাররা এমনও বলছেন, পেটের রোগ, ডায়ারিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এমন রোগীর শরীরেও ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আবার এমন করোনা রোগীও রয়েছেন যাঁদের চোখের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে কোনও সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও সতর্ক হতে হবে। যাঁর উপসর্গ দেখা দিয়েছে তিনি তো বটেই, তাঁর সংস্পর্শে থাকা লোকজনকেও তাড়াতাড়ি কোভিড টেস্ট করিয়ে নিতে হবে।