দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সপ্তাহেই আইএমএফ বলেছিল, বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে চলেছে বিশ্ব অর্থনীতি। রবিবার আলাদা করে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য আশঙ্কার কথা শোনাল বিশ্ব ব্যাঙ্ক। এই অঞ্চলে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এখানে প্রায় ১৮০ কোটি লোক বাস করে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের আশঙ্কা, দক্ষিণ এশিয়া এমন মন্দার মুখে পড়তে চলেছে যা গত ৪০ বছরে পড়েনি।
ইতিমধ্যে মন্দার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এই সব দেশে। লকডাউনের ফলে সাধারণ অর্থনৈতিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশ্চাত্যের দেশে থেকে এখানকার কারখানাগুলিকে যে অর্ডার দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। আচমকা কাজ হারিয়েছেন এক বিপুল সংখ্যক গরিব মজুর।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্টে বলা হয়েছে, "দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে খুবই দুর্দিন এসেছে। পর্যটন শিল্প বন্ধ। অনেক পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বস্ত্রশিল্পে চাহিদা ব্যাপক কমে গিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা অর্থ লগ্নি করতে সাহস পাচ্ছেন না।"
বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্ধেক দেশই পড়বে মন্দার মুখে। আগে ধরা হয়েছিল এখানে আর্থিক বিকাশ হবে বছরে ৬.৩ শতাংশ। এখন মনে হচ্ছে ১.৮ থেকে বড় জোর ২.৮ শতাংশ হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদে পড়বে মালদ্বীপ। পর্যটন শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে জিডিপি কমবে ১৩ শতাংশ। আফগানিস্তানের জিডিপি কমবে ৫.৯ শতাংশ। পাকিস্তানের কমবে ২.২ শতাংশ।
ভারত সম্পর্কে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ওই দেশের অর্থনীতি 'হেভিওয়েট'। সেখানে ১ এপ্রিল থেকে নতুন আর্থিক বছর শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি আর্থিক বছরে সেখানে অর্থনীতির বিকাশ হবে ১.৫ থেকে ২.৮ শতাংশ। আগে ভাবা হয়েছিল, ভারতের অর্থনীতির বিকাশ হবে ৪.৮ থেকে পাঁচ শতাংশ।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের আশঙ্কা, অতিমহামারীর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়বে বৈষম্য। এই অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। তাঁদের অনেকের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। সামাজিক সুরক্ষারও কোনও ব্যবস্থা নেই। অতিমহামারীতে তাঁরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গত কয়েক দশকে যে সাফল্য অর্জন করা গিয়েছে, সব নষ্ট হয়ে যাবে।
ভারতের সম্পর্কে বলা হয়েছে, এখানে জারি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন লকডাউন। ওই দেশের হাজার হাজার মজুর ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছিলেন। তাঁরা এই অবস্থায় হেঁটে নিজেদের গ্রামে ফিরেছেন।
বিশ্ব ব্যাঙ্ক সুপারিশ করেছে, ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকদের জন্য সাময়িক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক। ব্যবসায়ীদের দেওয়া হোক করছাড়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানি ও অফতানির ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদন দিক সরকার।