করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিনের বাইরে প্রথম মৃত্যু ফিলিপিন্সে, দেশে দেশে বাড়ছে আতঙ্ক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের বাইরে এই প্রথম করোনাভাইরাসের আক্রমণে মারা গেলেন ফিলিপিন্সের এক ব্যক্তি। এই মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্ক বেড়ে গেল কয়েক গুণ। চিনের বাইরে বেশ কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, কেউ মারা যাননি এখনও। র
শেষ আপডেট: 2 February 2020 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের বাইরে এই প্রথম করোনাভাইরাসের আক্রমণে মারা গেলেন ফিলিপিন্সের এক ব্যক্তি। এই মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্ক বেড়ে গেল কয়েক গুণ। চিনের বাইরে বেশ কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, কেউ মারা যাননি এখনও। রবিবার ফিলিপিন্সের ৪৪ বছরের এই ব্যক্তি এই প্রথম মৃত্যুর শিকার হলেন চিনের বাইরে। চিকিৎসকদের দাবি, তাঁর শরীরে মিলেছে করোনা ভাইরাসের নমুনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু) মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করেছে করোনাভাইরাস বলেই।
অন্যদিকে রবিবার পর্যন্ত চিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছে গেল ৩০৪। আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে।
মাস দেড়েক আগে চিনের উহান প্রদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের নমুনা মেলে। জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করেন একের পর এক মানুষ। ক্রমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন তাঁরা এবং পরিচিত চিকিৎসাপদ্ধতিতে সাড়া দেয় না এই অসুখ। একের পর এক রোগী মারা যেতে শুরু করেন। কার্যত মহামারীর রূপ নেয় এই মারণ ভাইরাস।
ফিলিপিন্সে মৃত ব্যক্তি চিনের উহানেই থাকতেন। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরেই ফিরে আসেন ফিলিপিন্সে। ততদিন পর্যন্ত কোনও রকম অসুস্থতা বোধ করেননি তিনি। নিরাপদে নিজের দেশে ফিরেও চলে আসেন। কিন্তু ফেরার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
ম্যানিলার স্যান ল্যাজ়ারো হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন গত সপ্তাহে। শেষমেশ প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যু হয় তাঁর। চিকিৎসকরা জানানস মৃতের শরীরে করোনাভাইরাস মিলেছে। উহান থেকে ফেরার সময়েই নিজের শরীরে এই ভাইরাস বয়ে আনেন তিনি।
ফিলিপিন্সের হু’র প্রতিনিধি রবীন্দ্র আবেয়াসিংহে বলেন, “ফিলিপিন্সে এই প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হল একজনের। আর কারও শরীরে করোনা ভাইরাস থাবা বসিয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনার পরেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে ফিলিপিন্সের নানা প্রান্তে। ভয় বেড়েছে অন্য দেশগুলিতেও।
হু’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮টি দেশে ১০০ জন রোগী ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বের যে ৩০টি দেশে করোনাভাইরাস হানা দেওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, সে তালিকায় ভারতও রয়েছে।
হু-এর সমীক্ষা বলছে, ঝুঁকির তালিকায় যে দেশগুলি রয়েছে, তার মধ্যে প্রথম নামটি হল তাইল্যান্ড। এর পরেই আছে জাপান এবং হংকং। আমেরিকা আছে ছ'নম্বরে, অস্ট্রেলিয়া ১০ নম্বরে, ইংল্যান্ড ১৭ নম্বরে এবং ভারত ২৩ নম্বরে। কেরলের দু'জন বাসিন্দার শরীরে ইতিমধ্যেই মিলেছে এই ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসকে চিহ্নিত করেছিল 2019-nCoV নামে। গবেষকরা এখন এই ভাইরাসকে ডাকছেন উহান করোনাভাইরাস (Wuhan coronavirus) নামে। নিউমোনিয়ার সঙ্গেই সাঁড়াশি আক্রমণ চালাচ্ছে এই ভাইরাস, তাই এর নাম উহান নিউমোনিয়াও রেখেছেন গবেষকরা। এই সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ড আরএনএ ভাইরাসের দেখা প্রথম মিলেছিল ২০১৯ সালে। ২০২০-র জানুয়ারির মধ্যেই এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে চিনের মূল ভূখণ্ডে। এমনকি উহান থেকে যাঁরা বাইরে গেছেন তাঁদের অনেকেই ভাইরাসের সংক্রমণ নিজের শরীরে বহন করে নিয়ে গেছেন।
ফিলিপিন্সের মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।