দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০২-০৩ সালে সার্স মহামারি ঘুম কেড়ে নিয়েছিল সারা বিশ্বের। মৃত্যু হয়েছিল সাড়ে সাতশোর বেশি মানুষের। কিন্তু নোভেল করোনা ভাইরাস তাকেও ছাপিয়ে গেল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথা হু সরকারি ভাবে জানাল চিন-সহ বিভিন্ন দেশে ৮০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতিমধ্যেই। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৭ হাজার।
চিনের উহান শহর নোভেল করোনাভাইরাসের এপিসেন্টার। চিন থেকে একে একে শ্রীলঙ্কা, জাপান এমনকি ভারতেও ঢুকে পড়েছে করোনা ভাইরাস। চিনের হাসপাতালের বেডের চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। ঠাসাঠাসি হাসপাতাল থেকে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক রোগীকেই। এর মধ্যে শুধু করোনা আক্রান্তদের রাখতে নতুন হাসপাতাল বানানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের তরফ থেকে।
মৃত্যু বেড়েই চলেছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সংক্রমণ ছড়াচ্ছে মহামারীর মতো। নোভেল করোনাভাইরাসের গ্রাসে চিনের আকাশ বাতাসে এখন স্বজন হারানোর যন্ত্রণা। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, চিনের মূল ভূখণ্ডেই আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ হাজারের কাছাকাছি।
সংক্রমণ ছড়াচ্ছে অন্যান্য প্রদেশেও। চিনের উহান থেকে যে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছিল সেটা এখন থাবা বসিয়েছে দেশের অন্যান্য শহরেও। রাজধানী বেজিংয়ে ৩০০-র বেশি মানুষের ভাইরাস-জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। সাংঘাই শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০০। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বার্তা দিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংও। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে হু।
ভারতের কেরলে তিনজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। দক্ষিণের এই রাজ্যেও স্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। সব মিলিয়ে যত দিন যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই উদ্বেগজনক হচ্ছে। রবিবার সকালে জানা গেল প্রায় দু'দশক আগের সার্স মহামারিকেও ছাপিয়ে গেল করোনা।