দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে করোনা সংক্রমণ। অতিমহামারীকে রুখে দেওয়ার জন্য গণ টিকারণও শুরু হবে শীঘ্র। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন সোমবার বললেন, করোনা অতিমহামারী আমাদের ঘড়ির কাঁটা অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। আমরা অনেক বছর পিছিয়ে গিয়েছি। হয়তো কয়েক দশকই পিছিয়ে গিয়েছি আমরা। লকডাউনের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে এমন অনেক বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যা অতিক্রম করতে অনেকদিন লাগবে।
এদিন শ্রী রামচন্দ্র ইনস্টিটিউট অব হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ভার্চুয়াল সমাবর্তনে ভাষণ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিমহামারীতে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অতিমহামারীর মোকাবিলা করতে গিয়ে আমাদের সামাজিক বন্ধনও দৃঢ়তর হয়েছে।
পরে তিনি বলেন, আমরা বহু দশক ধরে অনেক কষ্ট করে যা অর্জন করেছিলাম, মারণ ভাইরাস তা অনেকাংশে নষ্ট করে দিয়েছে। আমাদের বিজ্ঞানীরা সেই ভাইরাসকে ঠেকাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। তাঁর কথায়, "লকডাউন অনেক ক্ষেত্রে বিরাট বাধার প্রাচীর সৃষ্টি করেছে। এখন আমাদের সব কিছু ফের খতিয়ে দেখতে হবে।" তাঁর মতে, এখন দেশবাসীকে আরও বেশি সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিতে হবে। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। চিকিৎসকরা আমাদের দেশের মেরুদণ্ড। তাঁরা যদি সমাজের সেবা করেন, আমরা অনেক বাধা অতিক্রম করতে পারব।
মন্ত্রী জানান, অতিমহামারীর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ঠেকাতে ইতিমধ্যে মোদী সরকার কয়েকটি ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এসম্পর্কে কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার জানা যায়, দেশে করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা আরও কমেছে। গতকাল ছিল আড়াই লাখের কাছাকাছি। আজ দেখা গেছে, ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজারে ঠেকেছে। কোভিড অ্যাকটিভ কেসের হার ২.২৩ শতাংশ।
দেশে মৃত্যুহারও কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ২০১, কিছুদিন আগেই যা ৫০০ ছাড়িয়েছিল। দেশে এফেকটিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর তথা আর নম্বর ০.৯০ পয়েন্টেই স্থিতিশীল আছে। কিছুদিন আগেই আর-নম্বর কমে ০.৮৬ পয়েন্টে পৌঁছেছিল। এখন সেটাই কিছুটা বেড়ে ০.৯০ পয়েন্ট হয়েছে। আর-নম্বর কমে যাওয়া মানে সংক্রমণ ছড়ানোর হারও কমে যাওয়া।
দেশে এখনও অবধি ব্রিটেন ফেরত ৩৮ জনের শরীরে মিলেছে করোনার নতুন স্ট্রেন। গত সপ্তাহে ২৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, কর্নাটকে ১০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে যাঁরা ভর্তি রয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেসে। আক্রান্তদের মধ্যে কলকাতারও একজন ও অন্ধ্রপ্রদেশের ১২ জন রয়েছে। সংক্রামিতদের শরীর থেকে নেওয়া নমুনার জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনের বিন্যাস বের করে নতুন স্ট্রেনের সন্ধান মিলেছে। উত্তরপ্রদেশের এক বছর দুয়েকের শিশুও রয়েছে এই তালিকায়। সংক্রামিতদের মধ্যে আট জন ভর্তি রয়েছেন দিল্লির এনসিডিসিতে, দু’জন দিল্লির আইজিআইবিতে, তিন জন হায়দরাবাদের সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজিতে, পাঁচ জন পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে এবং এক জন কল্যাণীর এনআইবিজিতে। মহারাষ্ট্রে পাঁচজনের শরীরে মিলেছে নতুন স্ট্রেন। পশ্চিমবঙ্গে ব্রিটেন ফেরত আরও দুজনের শরীরে মিলেছে করোনার সংক্রমণ, তবে নতুন স্ট্রেন কিনা জানা যায়নি।