দ্য ওয়াল ব্যুরো : এখনই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে বিপদ। কোনও কোনও দেশে হয়তো লকডাউনের ফলে সংক্রমণের হার কমেছে। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হয়ে যদি কড়াকড়ি বন্ধ করা হয় তাহলে নতুন করে ফিরে আসবে ওই রোগ। দ্বিতীয়বারের সংক্রমণ হবে প্রথমবারের চেয়ে সাংঘাতিক। শনিবার এভাবেই সারা বিশ্বকে সাবধান করে দিল হু। সংস্থার তরফে ট্রেডোস আদহানম ঘেব্রেইসাস বলেন, আমরা জানি লকডাউনের ফলে অর্থনীতির যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে।, কিন্তু তাড়াতাড়ি নিষেধাজ্ঞা তুললে বিপদ হবে।
কোভিড ১৯ সংক্রমণে ইউরোপে যে দু'টি দেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই স্পেন ও ইতালিতে এখন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে কিছু পরিমাণে। যদিও লকডাউন চলছে। শনিবার জেনিভায় ভিডিও মারফৎ এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রেডোস বলেন, কীভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যায়, তা নিয়ে হু বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নিলে বিপদ হবে।
স্পেনে শুক্রবার ১৭ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম মানুষ মারা গিয়েছেন। এরপরে সেদেশের সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, অত্যাবশ্যকীয় নয়, এমন কয়েকটি পরিষেবা চালু করা হবে। নির্মাণ শিল্প ও আরও কয়েকটি শিল্পের শ্রমিকদের আগামী সোমবার কাজে যোগ দিতে বলা হয়।
ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী গিউসেপ্পি কন্টি ঘোষণা করেছেন, লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হল ৩ মে পর্যন্ত। তাঁর বক্তব্য, দেশে এখন সংক্রমণের হার কিছু কমেছে বটে কিন্তু এখনই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ফের আগের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। সেখানে ১২ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে লকডাউন। তার মধ্যে শুধু মুদির দোকান ও ওষুধের দোকান খোলা ছিল। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার বইয়ের দোকান ও বাচ্চাদের জামাকাপড়ের দোকান খোলা রাখা হবে।
আয়ারল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকর ঘোষণা করেছেন, লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হবে ৫ মে পর্যন্ত। তুরস্কে ৩১ টি শহরে কার্ফু ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ইস্তানবুল ও আঙ্কারা। শনিবার রাত থেকে শুরু হয়ে ৪৮ ঘণ্টা চলবে কার্ফু। পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডি সুজা জানিয়েছেন, ১ মে পর্যন্ত দেশে জারি থাকবে জরুরি অবস্থা। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, যখন বোঝা যাবে সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে তখনই নিষেধাজ্ঞা উঠবে ধাপে ধাপে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানিয়েছেন, তাঁদের দেশে ২১ দিন লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। তার মেয়াদ আরও দু'সপ্তাহ বাড়ানো হচ্ছে।