বোরখা পরেই মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বারে পৌঁছচ্ছেন ইমরানা, হাতে তাঁর জীবাণুনাশক, মন জয় করছেন পুরোহিতেরও
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর পরনে বোরখা। হাতে জীবানুনাশক স্প্রের সরঞ্জাম। কোন ধর্মীয় ভেদাভেদ না মেনে মন্দির-মসজিদ-গুরুদ্বার, সর্বত্র জীবাণুনাশের অঙ্গীকার গড়েছেন দিল্লির তরুণী ইমরানা সইফি। তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলে।
গোটা দেশ জুড়ে যখন ধর্মীয় হিং
শেষ আপডেট: 8 May 2020 05:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর পরনে বোরখা। হাতে জীবানুনাশক স্প্রের সরঞ্জাম। কোন ধর্মীয় ভেদাভেদ না মেনে মন্দির-মসজিদ-গুরুদ্বার, সর্বত্র জীবাণুনাশের অঙ্গীকার গড়েছেন দিল্লির তরুণী ইমরানা সইফি। তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলে।
গোটা দেশ জুড়ে যখন ধর্মীয় হিংসা হানাহানির খবর শিরোনামে আসে প্রায়ই, তখন এই মহামারীর সময়ে মানবতার ও ভালবাসার নজির গড়লেন তরুণী ইমরানা। কিছুদিন আগেও মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে নানান কুৎসা ও গুজব রটেছিল এই করোনা সংক্রমণ নিয়েই। অভিযোগের আঙুল উঠেছিল তাঁদের দিকে। সেই সমস্ত হিংসা ও বিভেদকে দূরে ঠেলে ভালবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করলেন নেহেরু বিহারের ইমরানা।
গোটা শরীর কালো বোরখায় ঢাকা। মুখেও হিজাব। দেখা যাচ্ছে শুধু চোখ দুটো। ইমরানা সইফিকে প্রতিদিন দেখা যায় জীবাণুনাশক স্প্রে হাতে ঘর থেকে বেরোতে। করোনার বিরুদ্ধে তিনিও এক লড়াকু যোদ্ধা। এখন চলছে পবিত্র রমজান মাস। সামনেই আসছে খুশির ঈদ। তারই প্রাক্কালে এই মহামারীর সঙ্গে লড়াই করতে নেমেছেন তিন সন্তানের মা, ৩২ বছরের ইমরানা। তিনি এই যুদ্ধে কোনও ভেদাভেদ রাখেন নি। মন্দির-মসজিদ-গুরুদ্বারে সর্বত্র তিনি জীবাণুনাশের কাজ করে চলেছেন।

পরিচিতরা বলছেন, উত্তর দিল্লির প্রতিটি কোণা তিনি সাফ করে ছলেছেন শক্ত হাতে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করছেন এই কাজ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন নিয়ম মেনে। মহামারীর সময়ে মানুষের পাশে থাকতে তিনি একটি ছোট্ট দল তৈরি করেছেন শুধু মহিলাদের নিয়ে। সেই দলে ইমরানা-সহ মোট ৩ জন সদস্য। সকলে মিলে এলাকা ঘুরে সাফাই করেন তাঁরা। জাতপাতের পার্থক্য ভুলে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় মন্দির ও গুরদ্বার কমিটিও।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন বরাবরই ভীষণ লড়াকু এবং মানবদরদী স্বভাবের মেয়ে এই ইমরানা। গত বছর লোকসভা অধিবেশনের পর যখন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনা হয়, তার প্রতিবাদেও এগিয়ে এসেছিলেন ইমরানা। দিল্লির পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে, জাতি ধর্ম ভুলে সকলের পাশে থাকেন তিনি। সেই মহিলাই এখন এলাকার সাফাইকর্মী।
ইমরানা জানিয়েছেন, তিনি কোনও দিন মন্দির-মসজিদে ভেদাভেদ দেখেন না। ঈশ্বরের অধিষ্ঠানের জায়গা নিয়ে ভাগ করা যায় না। তাই সর্বত্র তিনি জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন। কেউ তাঁকে বাধাও দেয় নি। তিনি আরও জানান ভারত সম্প্রীতির দেশ এবং তিনি সেই সম্প্রীতিতেই বিশ্বাস রাখেন।

নেহেরু বিহার দুর্গা মন্দিরের পুরোহিত পণ্ডিত যোগেশ কৃষ্ণ জানিয়েছেন, ইমরানার উদ্যোগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রক্ষা করছে। তিনি মনে করেন সকলের উচিত তরুণীর পাশে দাঁড়ানো। দিনের শেষে ঘৃণা নয়, ভালবাসাই দুনিয়া জয় করে।
জানা যায়, বেশি দূর লেখাপড়া শেখা হয়নি ইমরানার। কিন্তু জীবনের শিক্ষা তাঁর কাছে অতি গভীর ভাবে পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন একটি রোগ কখনও ধর্ম বা সম্প্রদায় দেখে আক্রমণ করে না। বরং সব সম্প্রদায়কে এক ছাদের তলায় এনেছে এই অসুখ। তাই লড়াইটাও এভাবে সবাই মিলেই লড়তে হবে। হাতে হাত রেখে সব ধর্ম এক করে একই ছাদের তলায় এসে লড়লে তবেই জয় আসবে করোনার বিরুদ্ধ।