দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাখে হরি, করোনা কে!
মিরাকল এভাবেই হয়। কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে টানা ৩৮ দিন ভেন্টিলেশনে থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী। এমন নজির গত চার মাসে গোটা বিশ্বে রয়েছে কিনা এখন তারই খোঁজ চলছে।
কলকাতায় প্রথম দিকে হাতে গোণা যে কজন রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নিতাইদাস মুখোপাধ্যায়। বয়স ৫২ বছর। তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেসের ব্যবস্থা করার কাজও করেন। ২৯ মার্চ প্রবল শ্বাসকষ্ট, গায়ে ব্যাথ্যা ও জ্বর নিয়ে তিনি ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা এতোটাই খারাপ ছিল যে সেদিন রাতেই তাঁকে ভেন্টিলেশনে দিয়ে কৃত্রিম ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস চালানোর ব্যবস্থা করতে হয়।
তার পর কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এমনকি এক সময়ে মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওরের দিকে চলে যায়। কিন্তু হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটের ডাক্তার শাশ্বতী সিনহার নেতৃত্বে চিকিৎসকদের টিম হাল ছাড়েননি। তাঁকে সুস্থ করে তোলার সব রকম চেষ্টা চলতে থাকে।
অবশেষে সেই চেষ্টাই ফল দেয়। গত ২ মে নিতাইদাসকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করা হয়। ততদিনে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। তার পর আরও পাঁচ দিন তাঁকে এইচডিইউ-তে রাখা হয়। আজ শুক্রবার তাঁকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালের সিইও রূপক বড়ুয়া বলেন, এই সাফল্য চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক্স, হাসপাতালের সাফাইকর্মী সবার সাফল্য। আনন্দের বিষয় যে আমরা একজন মুমূর্ষু রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠাতে পেরেছি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে যে ধরনের আতঙ্ক মানুষের মনে তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষিতে এই ঘটনা খুবই ইতিবাচক বলেই তাঁর মত।
দেখুন, কী বলছেন চিকিৎসকরা।
https://www.facebook.com/TheWallNews/videos/1480832985410801/
কারও শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে প্রচণ্ড জ্বর, গায়ে ব্যাথা ও তীব্র শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। আইসিএমআর জানিয়েছে, ৭৯ শতাংশ রোগীর উপসর্গ তীব্র নয়। যেহেতু এই ভাইরাস শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করছে তাই অনেকের অক্সিজেন সাপোর্ট লাগছে। কিছু রোগীকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে।
বস্তুত ভেন্টিলেশন থাকার পর অনেক রোগীই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
তবে ৩৮ দিন ভেন্টিলেশনে থাকার পর সুস্থ হয়ে ফেরার নজির রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। কলকাতায় রেকর্ড হল কিনা সেটাই এখন দেখা হচ্ছে।